শততম শতরান করেও সমালোচিত হয়েছিলেন শচীন! এমন ব্যতিক্রমী মুহূর্তের জন্মও দিয়েছে এশিয়া কাপ

শচীন তেন্দুলকর কি শুধু একজন ক্রিকেটার? না ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের কাছে তাঁর স্থান ক্রিকেটের গন্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক উপরে। ২৪ বছর তাঁর সঙ্গে আবেগের রথে সামিল হয়েছে ভারতীয়রা। তাঁর এক-একটি শতরান যেন শত কোটি ভারতবাসীর প্রত্যেকের নিজের করা শতরান।

শততম শতরান করেও সমালোচিত হয়েছিলেন শচীন! এমন ব্যতিক্রমী মুহূর্তের জন্মও দিয়েছে এশিয়া কাপ

এহেন শচীন তেন্দুলকরের প্রতিও ভারতীয়দের বিমুখ হতে দেখা গিয়েছে এশিয়া কাপে। অথচ সেই ম্যাচেও কিন্তু শতরান করেছিলেন শচীন। শুধু শতরান করা নয়, সেটা ছিল শচীনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করা শততম শতরান। আপাত দৃষ্টিতে তাঁকে নিয়ে আরও একবার গর্বে আনন্দে মেতে ওঠার কথা ভারতীয়দের। কিন্তু, বাস্তবে তা হয়নি।

আনন্দ উৎসব তো দূরের কথা সম্ভবত সেই একবারই শতরান করার জন্য শচীনকে সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভারতীয়দের ক্ষোভের। ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের ম্যাচ এরকম ব্যতিক্রমী মুহূর্তের সাক্ষি হয়েছিল। দেখে নেওয়া যাক ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন।

সেই বার এশিয়া কাপে শচীন এসেছিলেন শততম শতরানের খোঁজে। বস্তুত সেটা ছিল এক দীর্ঘ সময়ের খোঁজ। ৯৯তম সেঞ্চুরিটি এসেছিল একবছর আগে। তারপর ৩৩টি ইনিংস ধরে শচীন চেয়েছেন আরও একটি শতরান। কিন্তু আসেনি। অবসরের পর শচিন জানিয়েছিলেন, ক্রিকেট জীবনে ওই রকম ব্যক্তিগত হতাশাজনক সময় তাঁকে আর কখনও দেখতে হয়নি।

শচীনের সেই কাঙ্খিত সেঞ্চুরি এসেছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের ম্যাচে। কিন্তু সেই ইনিংস একেবারেই শচীন সুলভ ছিল না। গোটা ইনিংসে খুঁটে খুঁটে রান সংগ্রহ করতে হয়েছিল তাঁকে। এই ইনিংসই প্রমাণ করে দিয়েছিল, যতই তিনি শচীন তেন্দুলকর হোন না কেন, তিনিও চাপে পড়েন, আবেগের বাধে আটকে যায় তার সতস্ফুর্ত ক্রিকেট প্রতিভা।

১০২ বল খরচ করে তিনি ৮০ রানে পৌঁছেছইলেন। কিন্তু ৮০-র ঘরে পৌঁছে আরও ধীরে চলতে শুরু করে তাঁর ব্যাট। মাত্রাতিরিক্ত সাবধানী হয়ে পড়েছিলেন 'ক্রিকেট-ঈশ্বর'। পরের ২০টা রান করতে তিনি নিয়েছিলেন আরও ৩৬ টি বল। সব মিলিয়ে ১২টি ৪ ও ১টি ৬য়ের সাহায্যে ১৪৭ বলে ১১৪ রান করেছিলেন তিনি। এটি ছিল তাঁর বিশাল কেরিয়ারের দ্বিতীয় মন্থরতম শতরান।

শততম শতরানের তাঁর এই মহান কীর্তি একেবারেই উদযাপিত হয়নি তা নয়, তবে প্রশংসার থেকেও বেশি সমালোচনা হয়েছিল সেই ইনিংস নিয়ে। কারণ ক্রিকেটের চাঁছাছোলা হিসেবে তেন্দুলকরের এই শতরান নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল দলের রানে।

৩৬ ওভারের পর ভারত মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে ফেলেছিল। যে কোনও উইকেটে ওয়ানডে ইনিংসের জন্য অত্যন্ত ভাল ভিত। কিন্তু ওই দিন এই ভিতের উপর যেরকম বড় রানের পাহাড় গড়ার কথা ছিল ভারতের, তা হয়নি। ৫০ ওভারে ভারত ২৮৯ রানের বেশি এগোতে পারেনি।

দায়ী করা হয়েছিল শচীনের সেই 'স্বার্থপর', 'মন্থর' ব্যাটিংকে। তাঁর ব্যাচিংয়ের জন্যই ভারত সেই ম্যাচে ডেথ ওভারে আটকে গিয়েছিল। উল্টোদিকে বাংলাদেশের দল তখন বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের জাত চেনাতে শুরু করেছে। উৎসাহ উদ্দীপনায় টেক্কা দিয়ে গিয়েছিল ভারতকে।

শুরুতে সামান্য নড়বড়ে দেখালেও বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা একবার প্রয়োজনীয় ছন্দটা পেয়ে যেতেই ভারত আর বাংলাদেশকে রুখতে পারেনি। তামিম ইকবাল (৭০), জহুরুল ইসলাম (৫৩), নাসির হুসেন (৫৪), সাকিব আল হাসান (৪৯), মুস্তাফিকুর রহিম (৪৬)-এর চওড়া ব্যাটে ভর করে ৪ বল বাকি থাকতেই ভারতের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

ক্রিকেট সম্পর্কে সামান্য ওয়াকিবহাল যাঁরা তারাও জানেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ টা শতরান করাটা কতটা কঠিন কাজ। শচীন তেন্দুলকর এই ক্লাবের একমাত্র সদস্য। তাঁর এই শৃঙ্গে আরোহনের ঘটনাটি অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। বরং দলের স্বার্থ ছেড়ে ব্যক্তিগত কীর্তি স্থাপনের পিছনে ছোটার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিলেন শচীন। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দেয়, ক্রিকেটে দলই আগে, ব্যক্তি নয়, এটা সত্য শচীন তেন্দুলকরের মতো মহান ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেও।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Story first published: Thursday, September 6, 2018, 19:51 [IST]
    Other articles published on Sep 6, 2018
    POLLS

    পান মাইখেল-এর ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
    mykhel Bengali

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Mykhel sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Mykhel website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more