উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতরে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, নয়া নজির বাংলার মেয়ের

অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যশালী সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফল হলেন বাংলার সায়নি। ইংলিশ চ্য়ানেল বিজয়ীনির ঝুলিতে এল আরও এক নয়া নজির। উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরে ভরা রটনেস্ট চ্যানেল বরাবরই সাঁতারুদের চিন্তায় রাখে। এবারও তার অন্যথা হয়নি।

উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের

কালনার মেয়ে সায়নি যে ভয়-ডর মানেন না তা ইংলিশ চ্যানেলে সাঁতারের সময়ই দেখিয়ে দিয়েছিলেন। প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ের মাঝেও সাঁতার কেটে পার করেছিলেন ইংলিশ চ্যানেল। শনিবার সকালে যখন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কোটেসলো বিচ থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখন সমুদ্র উত্তাল। বিচের উপর ভিড় করেছেন কয়েক শ' প্রতিযোগী। উত্তাল সমুদ্রের বুকে প্রতিযোগীদের সঠিক দিশা দেখাতে এবং তাঁদের মেডিক্যাল হেল্পের জন্য হাজির হয়ে গিয়েছিল বহু ছোট ছোট রাবার বোট থেকে শুরু করে ছোটখাটো স্পিডবোট। কোটেসলো বিচ থেকে ১৯.৭ কিলোমিটার সাঁতার দিয়ে প্রতিযোগীদের পৌঁছতে হয় রটনেস্ট দ্বীপে। আর এই সাঁতারটা হয় রটনেস্ট চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে। তাই এর নাম রটনেস্ট চ্যানেল সুইম। উত্তাল সমুদ্রে বুকে আকাশপথে নজরদারি রাখতে ছিল হেলিকপ্টারও। বলতে গেলে সাঁতারের মহাযজ্ঞ। অনেকটা কান্ট্রি ম্যারাথনের মতো আয়োজন।

উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের

ভারত থেকে এই প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নেন সায়নি। এর জন্য কিছু দিন আগেই তিনি অস্ট্রেলিয়াতেও পৌঁছন। তার জন্য প্রস্তুতিও চলছিল। এদিন প্রতিযোগিতা শুরুর পর সায়নিরা তখন প্রায় ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত সাঁতার কেটে ফেলেছেন, সে সময় ১ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ থেকে ৪ ফুট লম্বা একটি সাদা হাঙরকে স্পট করা হয়। রটনেস্ট চ্যানেলের এই সাদা হাঙর খুবই বিপজ্জনক। আতঙ্কে প্রায় ১০০ প্রতিযোগী রেসকিউ ভেসেলে উঠে পড়েন। সমুদ্রের আরও খানিকটা পরে অবশ্য হাঙরটিকে আর দেখা যায়নি। এর মধ্যে কিছু প্রতিযোগী ফের জলে নামার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুসারে সাঁতার শেষ করা নিয়ে এঁদের কোনও রেকর্ড থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে রটনেস্ট চ্যানেল সুইম অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু, সায়নি অন্যদের মতো জল থেকে উঠে পড়েননি। তিনি হাঙরের ভয়কে অবজ্ঞা করেই সাঁতার কেটে পৌঁছন রটনেস্ট দ্বীপের সৈকতে।

উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের
উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের

হাঙরের আতঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে এদিন সায়নিদের কাছে আরও বড় বিপদ হয়ে উঠেছিল উত্তাল সমুদ্র। রটনেস্ট চ্যানেলের উত্তাল ঢেউ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল য়ে একটি রেসকিউ স্পিডবোটে জল ঢুকে তা তলিয়ে যায়। এতে ৮ জন প্রতিযোগী-সহ বেশকিছু লোকজন ছিলেন। এঁদের সকলেই নিরাপদে উদ্ধার করে অন্য একটি রেসকিউ ভেসেলে তোলা হয়। সুতরাং, সায়নিদের পক্ষে যে সাঁতার শেষ করাটা যে সহজ ছিল না তা বোঝাই যাচ্ছে।

উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের
উত্তাল সমুদ্র আর হাঙরের মাঝে সাঁতার কেটে লক্ষ্যে পৌঁছলেন সায়নি, ঝুলিতে নয়া নজির বাংলার মেয়ের

১৯.৭ কিলোমিটার সাঁতার শেষ করতে সায়নি সময় নিয়েছেন ৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড। প্রতি কিলোমিটার অতিক্রম করতে সায়নি সময় নিয়েছেন ২০.২৬ সেকেন্ড। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজির হওয়া কয়েক শ'সাঁতারুর মধ্যে রটনেস্ট চ্য়ানেল সুইম-এ ৯১ তম স্থান অধিকার করেন সায়নি। পরিকাঠামোহীন এক অবস্থা থেকে সাঁতার কেটে বিশ্বের তাবড় তাবড় প্রতিযোগীদের মাঝে প্রথম ১০০-তে স্থান পাওয়াটা কম কৃতিত্বের নয়। সুযোগ পেলে বাংলার মেয়েরাও যে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে তা এদিন ফের একবার দেখিয়ে দিয়েছেন সায়নি। ২০১৭ সালে ইংলিশ চ্যানেল জয়ের পরপরই সায়নি জানিয়েছিলেন আরও বড় লক্ষ্যে নামতে চলেছেন তিনি। এর প্রস্তুতিতে তাঁকে বিদেশেও যেতে হতে পারে। সায়নির সেই প্রস্তুতিরই অঙ্গ ছিল রটনেস্ট চ্যানেলের সাঁতার কাটা। বোঝাই যাচ্ছে ডাকা-বুকো বাংলার মেয়ে হার মানতে নারাজ। যত বড় বিপদ-ই আসুক না কেন নিজের লক্ষ্যে অবিচল তিনি।

Story first published: Saturday, February 24, 2018, 14:17 [IST]
Other articles published on Feb 24, 2018

পান মাইখেল-এর ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
mykhel Bengali