প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে হুইল চেয়ার টেনিসে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করতে চান মধুসূদন

টেনিস সম্পর্কে আলোচণা করলেই সাধারণ ভাবেই উঠে আসে রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদাল, নোভাক জোকোভিচদের প্রসঙ্গ।

প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে হুইল চেয়ার টেনিসে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করতে চান মধুসূদন

সম্পূর্ণ সুস্থ এই ক্রীড়াবিদরা সমস্ত আলো নিয়ে গেলেও টেনিস কোর্টে এমন বহু খেলোয়াড় আছেন যাঁরা শরীরী প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে অংশ নেন টেনিস সার্কিটে। হুইল চেয়ারে বসেই লড়াই চালান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে। তাঁদের জন্য আয়োজিত হয় হুইল চেয়ার টুর্নামেন্ট। উইম্বলডনেও হুইলচেয়ার চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। এই রকমই একজন টেনিস খেলোয়াড় হলেন ভারতের মধুসূদন এইচ।

২১ বছরের এই তরুণ জীবনের সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছিল একটি ট্রেন দুর্ঘটনা। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে নিজের দু'টি পা হারা মধুসূদন। সেদিনের সেই স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আজও কেঁপে ওঠে মধুসূদনের গলা। তিনি বলেন, 'তারিখটা ছিল ৩০ মে। আমি চাইতাম বাইরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য গেটের সামনে দাঁড়াতে বা বসতে। যখন আমি গৌরিবিদানুর যাচ্ছিলাম ট্রেনে করে। রজানাকুন্তের কাছে ধাক্কা ধাক্কিতে আমি পড়ে যাই ট্রেন থেকে। আমার পায়ের উপর দিয়ে চলে যায় ট্রেনের চাকা। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় রেলের হাসপাতালে এবং পরে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সব শেষে পাঠানো হয় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে। সেখানেই বাদ যায় দু'টি পা।'

পুরো ঘটনাকে মেনে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে সময় লেগেছিল মধুসূদনের। হতাশায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'যেটা গিয়েছে তা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। বাড়ি থেকে বেড়তে চাইতাম না ঘরের মধ্যেই থাকতাম। কিন্তু আমার মা জোড় করে আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করায় এবং এপিডিতে নিয়ে। যায় ওখান থেকেই আমি হুইল চেয়ার টেনিস খেলায় উৎসাহ পাই।'

এখন বিভিন্ন প্রকার হুইল চেয়ার টুর্নামেন্টেও অংশ নেন মধুসূদন। গতমাসের ২৫ থেকে ২৮ জুন, সুইডেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হুইলচেয়ার টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নিয়ে ছিলেন তিনি।
এই তরুণ খেলোয়াড় স্বপ্ন দেখেন দেখেন একদিন উইম্বলডনে খেলার এবং ২০২০ টোকিও প্যারাঅলিম্পিকে পদক জেতার।

তবে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার পথে মধুসূদনের কাছে এখন যেটা প্রধান বাধা তা হল, অনুশীলণের জন্য একাধিক কোর্ট। মধুসূদনের কোচ এলভিস জোসেফ বলেন, 'শহরের বা দেশের অধিকাংশ কোর্টই প্রতিবন্ধীদের সহায়ক নয়। বহু সময়ে এই ধরনের প্লেয়ারদের কোর্টেও প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। টেনিস কোর্টের কেয়ার টেকাররা, কিছু কিছু সময়ে কোচেরাও এই ধরনের খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে চান না। হুইল চেয়ারের দাগ কোর্টে পরলে, কোর্ট নষ্ট হতে পারে এই ভয়ে এদের স্বাগত জানানো হয় না কোর্টের মধ্যে।'

তবে, সকল প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছতেস আশাবাদী মধুসূদন। তিনি বলেন, 'অনুশীলণের জন্য মাঠ খুঁজে পাওয়াটাই আমার কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যান্য শরীরিক ভাবে সক্ষম খেলোয়াড়েরা যখন খেলে, তখন আমাদের কোর্টের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমাদের জন্য নির্দিষ্ট একটা সময় ঠিক করে দেওয়া হয়। এবং সেটা দিনের মাঝামাঝি সময়ে। আমি কৃতজ্ঞ ইন্দিরানগর ক্লাব এবং তাঁর প্রেসিডেন্ট বিএনএস রেড্ডির কাছে সপ্তাহে তিনবার সকাল ১১ থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অনুশীলণের সুযোগ দেওয়ার জন্য।'

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Story first published: Thursday, July 19, 2018, 17:28 [IST]
    Other articles published on Jul 19, 2018
    POLLS

    পান মাইখেল-এর ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
    mykhel Bengali

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Mykhel sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Mykhel website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more