১৯৯৮ সালের ১৭ জুন জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় তীরন্দাজ অঙ্কিতা ভকত খেলাধুলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে তিনি মহিলাদের একক, মহিলাদের দল এবং মিশ্র দলের বিভাগে অংশগ্রহণ করেন। অঙ্কিতা বর্তমানে সক্রিয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন, বিশ্বব্যাপী তাঁর দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই অঙ্কিতা মহিলাদের একক ১/৩২ নির্মূলক রাউন্ডে পোল্যান্ডের ওয়ালেটা মিশজরের মুখোমুখি হন। ম্যাচটি অঙ্কিতার ৪-৬ স্কোরের পর মিশজরের জয়ে শেষ হয়। এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও, অঙ্কিতা ভারতীয় তীরন্দাজদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়েছেন।
অঙ্কিতা দলগত প্রতিযোগিতায়ও অংশগ্রহণ করেন। মহিলাদের দলের বিভাগে ভারত ৮ম স্থান অধিকার করেছিল। দলটিতে অঙ্কিতা ভকত ছাড়াও তাঁর দলের সদস্যরা বিশ্বের শীর্ষ দলগুলিতে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই ভারত মহিলাদের দলের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে ০-৬ স্কোরের পর পরাজিত হয়।
মিশ্র দলের বিভাগে ভারত ২৬তম স্থান অধিকার করেছিল। অঙ্কিতা এবং তাঁর দলের সদস্য ২০১৪ সালের ২৫ জুলাই ইনভ্যালিডেসে মিশ্র দলের র্যাঙ্কিং রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের ২০১৪ সালের ২ আগস্ট মিশ্র দলের ১/৮ নির্মূলক রাউন্ডে ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করা নির্ধারিত।
অঙ্কিতার কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলিতে ২০১৭ সালের ইউ-২১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে জেমসন সিং নিংথুজামের সাথে মিশ্র দলের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন অন্তর্ভুক্ত। ২০১২ সালের হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে ভাজান কৌর এবং সিমরানজিত কৌরের সাথে তিনি দলগত রিকারভ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
তিনি তিনবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ দলগত পদক বিজয়ী, ২০১১ সালে রূপা এবং ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে উভয় ব্রোঞ্জ। ২০১৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে তাঁর বিশ্বকাপ পারফর্ম্যান্স সুসঙ্গত ছিল।
অঙ্কিতা কলকাতার বাসিন্দা এবং জামশেদপুরে বাস করেন। স্থানীয় একটি টুর্নামেন্ট দেখার পর দশ বছর বয়সে তিনি তীরন্দাজী শুরু করেন। কলকাতা তীরন্দাজী ক্লাবে প্রশিক্ষণের পরে তিনি জামশেদপুরের টাটা তীরন্দাজী একাডেমিতে যোগ দেন। তাঁর কোচ পূর্ণিমা মাহাতো।
অঙ্কিতার যাত্রা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অন্য ছাত্রদের কাছ থেকে সরঞ্জাম ধার করে শুরু হয়েছিল। তাঁর নিষ্ঠা ফলপ্রসূ হয় যখন তিনি ২০১৭ সালে শাংহাইয়ে বিশ্বকাপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং এককভাবে ৩৩তম স্থান অধিকার করেন।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, অঙ্কিতা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে যেতে চান এবং তাঁর র্যাঙ্কিং উন্নত করতে চান। আগামী প্রতিযোগিতায় তাঁর অংশগ্রহণ ভক্ত ও খেলাধুলাপ্রেমীদের দ্বারা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষিত হবে।
অঙ্কিতা ভকত ভারতীয় তীরন্দাজীতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তাঁর অর্জন তাঁর নিষ্ঠা এবং দক্ষতা প্রতিফলিত করে। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তাঁর যাত্রা অনেক আকাঙ্ক্ষী ক্রীড়াবিদের জন্য অনুপ্রেরণা।