টোকিও অলিম্পিক ২০২০ শুরু হবে চলতি বছরের ২৩ জুলাই। শেষ হবে ৮ অগাষ্ট। এদিকে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে দ্বিতীয়বারের জন্য অলিম্পিকের আয়োজন করতে চলেছে টোকিও। গোটা বিশ্বজুড়ে ভয়ঙ্কর করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের জেরে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় পিছিয়ে গিয়েছিল এবাবের অলিম্পিক। প্রায় ২০6 টি দেশের মোট ১১২৩৮ ক্রীড়াবিদ এবারের টোকিও গেমসে অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৫৩ টি বিভাগের ৩৩ টি খেলায় ৩৩৯ টি ইভেন্ট থাকছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে এবারের অলিম্পিকেই সর্বাধিক ভারতীয় ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ৩২তম অলিম্পিয়াডে টোকিওতে ১২৬ ক্রীড়াবিদ যাচ্ছেন ভারত থেকে।
২০১৬ সালের অলিম্পিক গেমস ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে ৫ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৩১ তম অলিম্পিয়াডে ২০৭ টি দেশের ১১,২৩৮ অ্যাথিলিট অংশ নেন। ৪১ টি বিভাগের ২৮টি খেলায় ৩০৬ ইভেন্টে খেলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৪১ টি স্বর্ণ, ৩৭টি রৌপ্য এবং ৩৮ টি ব্রোঞ্জের মেডেল জেতে। মোট ১২১ টি পদক যায় আমেরিকার ঝুলিতে। সেখানে ব্রিটেন জেতে ২৭টি সোনা, চিন জেতে ২৬টি সোনা, রাশিয়া ১৯, জার্মানি ১৭টি। আমেরিকার পরেই প্রতিটা দেশ ক্রমাণ্বয়ে তালিকা অনুসারে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অধিকার করে। অন্যদিকে শেষবার রিও-তে শক্তিশালী অলিম্পিক দলকে পাঠায় ভারত।৬৩ জন পুরুষ এবং ৫৪ জন মহিলা বিভিন্ন বিভাগে অংশ নেয়। তবে ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র ১টি রূপো ও ব্রোঞ্জের পদক। মহিলা শাটলার পিভি সিন্ধু রূপোর মেডেল পান। পাশাপাশি মহিলা কুস্তিগীর সাক্ষী মালিক সাক্ষী ব্রোঞ্জ পদক পান।
২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০৪ টি দেশ থেকে ১০ হাজার ৭৬৮ জন বিভিন্ন বিভাগের খেলায় অংশ নেন। পুরুষ ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯৯২। মহিলা ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭৬। ৩০তম অলিম্পিয়াডসটি ২৭ জুলাই থেকে ১২ অগাস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ৩৯ টি বিভাগে ২৬ খেলায় ৩০২ টি ইভেন্ট চলে। লন্ডন গেমসে মাইকেল ফেল্পস তার ২২তম পদক জিতে সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান হিসাবে উঠে এসেছিলেন মাইকেল ফ্লেপস। অন্যদিকে পদক জেতার ক্ষেত্রেও রেকর্ড করেছিল আমেরিকা। আমেরিকার ঝুলিতে যায় ১০৪টি পদ। তার মধ্যে ছিল ৪৬টি স্বর্ণপদক। সেখানে চিনের ঝুলিতে যায় ৩৮টি সোনার পদক। সব মিলিয়ে চিন জিতেছিল ৯১টি পদক। ব্রিটেন পায় ৬৫টি পদ। তারমধ্যে ২৯টি সোনা, ১৭টি রূপোর পদক। অন্যদিকে ভারত ১৩ টি খেলায় প্রতিযোগিতার জন্য ৮৩ জন অ্যাথলিটকে লন্ডনে পাঠিয়েছিল ভারত। মোট ৬টি পদক আসে ভারতের ঝুলিতে। তার মধ্যে ২টি রূপো ৪ টি ব্রোঞ্জ। শ্যুটার বিজয় কুমার এবং কুস্তিগীর সুশীল কুমার রূপোর পদ জেজেন। মহিলা শাটলার সায়না নেহওয়াল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন। শ্যুটার গগন নারানগ, কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত, মহিলা বক্সার মেরি কম এবং মহিলা শাটলার সায়না নেহওয়াল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
অন্যদিকে ২০০৮ সালে চিনের রাজধানী বেজিংয়ে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আয়োজন করা হয়। সেই বছর ৮ থেকে ২৪ অগাষ্টের মধ্যে চলে খেলা। ২০৪ টি দেশের মোট ১০৯৪২ অ্যাথিলিট ২৮ টি খেলায় ৩০২ টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। সেই বছরই চিন প্রথমবারের মতো অলিম্পিক আয়োজন করেছিল। আর সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় মোট ৩৭টি ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে অশ্বারোহীদের ইভেন্টগুলি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে অভূতপূর্ব ভাবে বেজিং গেমসে ৮৭টি দেশ অন্তত একটি করে পদক জেতে। যা অলিম্পিকের ইতিহাসে অনন্য। অন্যদিকে পদক তালিকায় সেইবার শীর্ষ স্থানে ছিল চিন।কারণ চিন সেই বছর মোট ১০০টি মেডেল জেতে। যার মধ্যে ৪৮টি সোনা। সেখানে সোনা জেতার নিরিখে চিনের পিছনেই ছিল আমেরিকা। তারা মোট ১১২টি পদক জিতলেও ঝুলিতে আসে ৩৬টি স্বর্ণ পদক। বিখ্যাত মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস জেতেন আটটি স্বর্ণপদক। একক জয়ের নিরিখে যা এখনও বিশ্ব রেকর্ড। সেই বছরই অলিম্পিকের ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স দেখা যায় ভারতের। ঝুলিতে আসে একটি সোনা ও দুটি ব্রোঞ্জ। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে সোনা জিতেছিলেন অভিনব বিন্দ্রা। রেসলার সুশীল কুমার এবং বক্সার বিজেন্দ্র সিং নিজ নিজ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।
২০০৪ সালের ১৩ থেকে ২৯ আগস্টের মধ্যে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়। ২৮তম অলিম্পিয়াডে ২০১ টি দেশের ১০৬২৫ জন অ্যাথেলিট অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন ৬ হাজার ২৯৬ জন পুরুষ ও ৪ হাজার ৩২৯ জন মহিলা। ৪০ টি বিভাগে 28 টি স্পোর্টসে ৩০১ ইভেন্টে খেলা চলে। ওই বার পদক তালিকায় শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঝুলিতে আসে ৩৬ টি স্বর্ণপদক। মোট ১০১টি মেডেল জেতে আমেরিকা। আমেরিকার পরেই ছিল চিন। মোট ৬৩টি পদক জেতে তারা। ঝুলিতে আসে ৩২ টি স্বর্ণ পদক। ভারতের পক্ষে ক্যাপ্টেন রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর শুটিংয়ে রূপোর পদক জিতেছিলেন। দেশের প্রথম ব্যক্তিগত রূপোর পদক এসেছিল তাঁর ঝুলিতেই। ভারত ১৪টি খেলায় ৭৩ জন ক্রীড়াবিদকে এথেন্সে পাঠিয়েছিল ভারত।
অন্যদিকে নয়া শতাব্দীর প্রথম অলিম্পিক গেমস ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত হয় সিডনিতে। সেপ্টেম্বরের ১৫ থেকে অক্টোবরের ১ তারিখ পর্যন্ত চলে ২৭তম অলিম্পিয়াড। ১৯৫6 সালে মোলবোর্নের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পর ২০০০ সালেই ফের দ্বিতীয়বারের জন্য অলিম্পিকের আয়োজন করে অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯ টি দেশ থেকে ৪০টি বিভাগে ২৮টি স্পোর্টসে ৩০০ইভেন্টে ১০ হাজার ৬৫২ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন।৬ হাজার ৫৮২ জন পুরুষ এবং ৪ হাজার ৬৯ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। মেডেল টেবিলের শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ঝুলিতে যায় ৩৭ টি সোনার পদক। সেথানে ক্রমাণ্বয়ে ৩২টি সোনা জেতে রাশিয়া, ২৮টি সোনা জেতে চিন, অস্ট্রেলিয়া জেতে ১৬টি সোনার পদক। ভারতের মহিলা ভারোত্তোলক কর্ণম মলেশ্বরী যখন ৬৯ কেজি মহিলা বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতছিলেন। সেবছর ওই একটিই পদক আসে ভারতের ভাগ্যে। ৩৬টি ইভেন্টে সেইবার ভারতের তরফে ৬৫ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৯৬ সালে আমেরিকার আটলান্টায় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৬ তম অলিম্পিয়াড। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এটি চতুর্থ অলিম্পিক। ১৯৭টি দেশ সেইবার অলিম্পিকে অংশ নেয়। ৩৭টি বিভাগে ২৬টি স্পোর্টসে ২৭১ইভেন্টে ১০ হাজার ৩২০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন।৬ হাজার ৭৯৭ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫২৩ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। ৪৪ টি স্বর্ণ, ৩২ টি রৌপ্য এবং ২৫ টি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মেডেল টেবিলের শীর্ষে ছিল। তাদের ঝুলিতে ছিল মোট ১০১টি মেডেল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল রাশিয়া মোট ৬৩টি মেডেল পেলেও তার মধ্যে ছিল ২৬টি সোনার পদক। ওই অলিম্পিকেই ভারতের হয়ে লিন্ডার পেজ ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। তিনিই ছিলেন অলিম্পিকে ভারতের তরফে পদক অর্জনকারী প্রথম টেনিস খেলোয়াড়। এমনকী আটলান্টা অলিম্পিকে ভারত ওই একটিই পদক জেতে।
১৯৯২ সালে স্পেনের বার্সেলোনায় গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৫ তম অলিম্পিয়াড। বর্ণবাদের কারণে ৩২ বছর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার পরে দক্ষিণ আফ্রিকা এই গেমসে পুনরায় আমন্ত্রিত হয়েছিল। ১৬৯টি দেশ সেইবার অলিম্পিকে অংশ নেয়। ৩৪টি বিভাগে ২৫টি স্পোর্টসে ২৫৭ইভেন্টে ৯ হাজার ৪৫৬ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন।৬ হাজার ৬৫২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭০৪ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। বাল্টিক স্টেটস ছাড়াই পুরনো সোভিয়েত রিপাবলিকের সমন্বিত ইউনিফাইড দল ৪৫ টি স্বর্ণ সহ মোট ১১২টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় শীর্ষে ছিল। বার্সেলোনা গেমসে ভারত ৫৩ জন অ্যাথেলিটকে পাঠালেও কোনও পদক জিততে পারেনি।
১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭ সেপটেম্বর থেকে অক্টোবরের ২ তারিখ পর্যন্ত চলে খেলা। ১৫৯টি দেশ সেইবার অলিম্পিকে অংশ নেয়। ৩১টি বিভাগে ২৩৭ইভেন্টে ৮ হাজার ৩৯১ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন। যার মধ্যে ৬ হাজার ১৯৭ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৯৪ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিলেন। পদক জয়ের নিরিখে সেইবার শীর্ষ তালিকায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। রাশিয়া মোট ১৩২টি মেডেল পায়। তার মধ্যে ছিল ৫৫টি সোনার পদক। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল পূ্র্ব জার্মানি। জেতে ১০২টি মেডেল। দক্ষিণ কোরিয়া জেতে ৩৩টি মেডেল। যার মধ্যে ১২টি সোনা, ১০টি রূপো ও ১১টি ব্রোঞ্জের মেডেল ছিল।আমেরিকা জেতে ৯৪টি মেডেল।
১৯৮৪ সালে ২৩তম অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে। ২৮ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছিল খেলা এবং এতে ১৪০ টি দেশের অংশগ্রহণ করেছিল। ২৯টি বিভাগে ২১টি স্পোর্টসে ২২১টি ইভেন্টে ৬ হাজার ৮২৯ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন। ৫ হাজার ২৬৩ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৬৬ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। সেইবার সোভিয়েত ইউনিয়ন অলিম্পিক বয়কট করে। ফলস্বরূপ মেডেল টেবিলের শীর্ষে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ঝুলিতে যায় মোট ১৭৪টি মেডেল। তার মধ্যে ৮৩টি সোনার পদক, ৬১টি রূপো ও ৩০টি ব্রোঞ্জের পদক। সেথানে ক্রমাণ্বয়ে ৩২টি সোনা জেতে রাশিয়া, ২৮টি সোনা জেতে চিন, অস্ট্রেলিয়া জেতে ১৬টি সোনার পদক। দ্বিতীয় স্থানে ছিল রোমানিয়া। তারা পেয়েছিল ২০টি সোনা, ১৬টু রূপো, ১৭টি ব্রোঞ্জের মেডেল। তবে সেইবার কোনও পদকই জিততে পারেনি ভারত।
১৯৮০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজধানী মস্কোয় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই অলিম্পিয়াড। মস্কো গেমসে ২৭টি বিভাগে ২১টি স্পোর্টসে ২০৩টি ইভেন্টে ৮০ টি দেশের ৫ হাজার ১৭৯ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন। যার মধ্যে ৪ হাজার ৬৪ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ১১৫ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। এদিকে সোভিয়েত আফগান যুদ্ধের কারণে সেইবার অলিম্পিক বয়কট করে আমেরিকা। পদক জয়ের নিরিখে সেইবার শীর্ষ তালিকায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। রাশিয়া মোট ১৯৫টি মেডেল পায়। তার মধ্যে ৮০টি সোনার পদক, ৬৯টি রূপো ও ৪৬টি ব্রোঞ্জের পদক ছিল। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল পূ্র্ব জার্মানি। তারা জেতে ১২৬টি মেডেল। তার মধ্যে ছিল ৪৭টি সোনার পদক, ৩৭টি রূপো ও ৪২টি ব্রোঞ্জের পদক। দক্ষিণ কোরিয়া জেতে ৩৩টি মেডেল। যার মধ্যে ১২টি সোনা, ১০টি রূপো ও ১১টি ব্রোঞ্জের মেডেল ছিল। সেইবার হকিকে সোনা জেতে ভারত। পদক টেবিলে ২৩তম স্থানেও ছিল ভারত।
১৯৭৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক কানাডার মন্ট্রিয়ালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭ জুলাই থেকে ১ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই ২১তম অলিম্পিয়াড। ২৭টি বিভাগে ২১টি স্পোর্টসে ১৯৮টি ইভেন্টে ৯২ টি দেশের ৬ হাজার ৮৪ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন। যার মধ্যে ৪ হাজার ৮৪২ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ২৬০ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। পদক জয়ের নিরিখে সেইবার শীর্ষ তালিকায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। রাশিয়া মোট ১২৫টি মেডেল পায়। তার মধ্যে ৪৯টি সোনার পদক, ৪১টি রূপো ও ৩৫টি ব্রোঞ্জের পদক ছিল। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল পূ্র্ব জার্মানি। তারা জেতে ৯০টি মেডেল। আমেরিকা জেতে ৯৪টি পদক। সেইবার সাফল্যের মুখ দেখতে পায়নি ভারত। হতাশ করেছিল ভারতের পুরুষ হকি টিমও।
১৯৭২ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২৬ অগাষ্ট থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই অলিম্পিয়াড। ২৮টি বিভাগে ২১টি স্পোর্টসে ১৯৫টি ইভেন্টে ৭ হাজার ১৩৪ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতা করেছিলেন। যার মধ্যে ৬ হাজার ৭৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৯ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিল। এদিকে সেইবার অলিম্পিক চলাকালীন সময়েই আক্রমণ চালায় সন্ত্রাসবাদীরা। রক্তস্নাত হয়ে যায় অলিম্পিকের ইতিহাস। ১১ জন ইজরায়েলি অ্যাথেলিট এবং কোচ সহ একজন পশ্চিম জার্মানির এক পুলিশ কর্মীকে হত্যা করে সন্ত্রাসবাদীরা। পদক জয়ের নিরিখে সেইবারও শীর্ষ তালিকায় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। রাশিয়া মোট ৯৯টি মেডেল পায়। তার মধ্যে ৪৯টি সোনার দ্বিতীয় স্থানে থেকে আমেরিকা জেতে ৯৬টি পদক। সেইবার সাফল্যের মুখ দেখে ভারতের হকি টিম। জেতে ব্রোঞ্জ মেডেল।
১৯৬৮ সালে মেক্সিকো সিটিতে ১৯ তম অলিম্পিকের আসর বসেছিল৷ এটাই প্রথমবারের জন্য কোন ল্যাতিন আমেরিকান দেশে হওয়া অলিম্পিক গেমস, যে দেশের ভাষা ছিল স্প্যানিশ। ১২ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে মেক্সিকোতে এই গেমস হয়েছিল। এই অলিম্পিক গেমসেই প্রথমবারের জন্য সিন্থেটিক ট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছিল৷ ১১২ টি দেশের ৫৫১৬ জন অ্যাথলিট এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। যার মধ্যে ৪৭৩৫ ছেলে এবং ৭৮১ জন মহিলা প্রতিযোগী ছিলেন৷ ১৭২ টি ইভেন্ট, ১৮ টি খেলা ২৪ টি বিভাগ ছিল এই অলিম্পিক গেমসে৷ ১৯৬৮ সালের এই অলিম্পিক গেমসে সবচেয়ে বেশি পদক জিতেছিল আমেরিকা৷
১৯৬৪ সালের ১০ থেকে ২৪ অক্টোবর টোকিওতে ১৮ তম অলিম্পিক গেমসের আসর বসেছিল৷ জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই অলিম্পিক গেমসটিই ছিল এশিয়াগে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম অলিম্পিকে আসর। খেলায় বর্ণবিদ্বেষের কারণে এই অলিম্পক গেমস থেকে বাদ পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা৷ ৯৩টি দেশের ৫১৫১ জন অ্যাথলিট এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ যার মধ্যে পুরুষ অ্যাথলিট ছিলেন ৪৪৭৩ জন এবং মহিলা ছিলেন ৬৭৮ জন। ১৬৩ টি ইভেন্টে, ২৫টি বিভাগ, ১৯ টি খেলা ছিল এই অলিম্পিকে। টোকিওর জাতীয় স্টেডিয়ামে এই অলিম্পিকের আসর বসেছিল৷
১৯২০ তে বেলজিয়ামে সপ্তম অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷ ২৯টি দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। সবচেয়ে সোনা সহ এই প্রতিযোগিতার পদকতালিকার শীর্ষে ছিল আমেরিকা। ১০৩টি পদক নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে ছিল রাশিয়া।
১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে ১৬তম অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷ এই গেমসের অশ্বারোহনের প্রতিযোগিতাটি ছাড়া বাকি সমস্ত ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াতে৷ অশ্বারোহণের প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্টকহোমে৷ এটি ছিল দক্ষিণ গোলার্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম অলিম্পিক৷ এই অলিম্পিকে পদকতালিকায় শীর্ষে ছিল রাশিয়া, গেমসের আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া ছিল তৃতীয়স্থানে৷
১৫ তম অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫২সালের ১৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট ফিনল্যান্ডের রাজধানী শহরে৷ হেলসিঙ্কি ছিল অলিম্পিক যেখানে বেশিরভাগ বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছিল এবং ২০০৮ বেজিং অলিম্পিকের আগে ওটাই ছিল সবচেয়ে বেশি রেকর্ড তৈরির অলিম্পিক গেমস৷ ৬৯টি দেশের ৪৯২৫ জন অ্যাথলিট এই গেমসে অংশগ্রহণ করেছিল৷ ৭৬টি পদকের সঙ্গে তালিকায় শীর্ষস্থানে ছিল আমেরিকা।
১৯৮৪ সালের ২৯ জুলাই থেকে ১৪ অগাস্ট লন্ডনে ১৪ তম অলিম্পিক গেমসের আসর বসেছিল৷ এর আগের দুটি অলিম্পিক গেমস বন্ধ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে।১৩৬ টি পদক ইভেন্টে, ২৩টি বিভাগ ছিল এই অলিম্পিকে। বিশ্বযুদ্ধের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে এই অলিম্পিকটিকে অস্টিরিটি গেমসও বলা হয়৷
১৯৩৬ সালের ১ থেকে ১৬ আগস্ট জার্মানির বার্লিনে ১১ তম অলিম্পিক গেমসের আসর বসেছিল৷ ৫টি নতুন দেশ এই গেমসে অংশগ্রহণ শুরু করে৷ ৪৯টি দেশের বহু অ্যাথলিট এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ ৮৯ পদক জিতে গেমস তালিকায় শীর্ষে ছিল জার্মানি৷ ৫৬টি মেডেল নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে ছিল আমেরিকা
১৯৩২ সালের ৩০ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট আমেরিকার লসঅ্যাঞ্জেলসে ১০ তম অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল৷ এই সময় থেকে 'অলিম্পিক ভিলেজ' শুরু হয়৷ ভিক্ট্রি পোডিয়াম এবং ম্যাসকটের সূচনাও এই গেমস থেকে।
১৯২৮ সালের ২৮ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট নেদারল্যান্ডসের রাজধানী শহরে ৯ম অলিম্পিক গেমসের আসর বসেছিল৷ সবচেয়ে বেশি পদক জিতে গেমস তালিকায় শীর্ষে ছিল আমেরিকা৷ এই অলিম্পিকেই পৃরথমবারের জন্য ভারত কোনও পদক জেতে৷ হকিতে সোনার পদক পেয়েছিল ভারত৷
১৯২৪ সালের ৫ থেকে ২৭ জুলাই ফ্রান্সের রাজধানী শহরে ৮ম অলিম্পিক গেমসের আসর বসেছিল৷ এটা ছিল ফ্রান্সে হওয়া দ্বিতীয় অলিম্পিক। ফ্রান্স থেকে এই অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছিল ৪০১ জন অ্যাথলিট৷ তবে এই অলিম্পিকেও মাত্র ২২৯ জন অ্যাথলিট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোনা এবং বেশি পদক জিতেছিল আমেরিকা৷
এর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জেরে বাতিল হয়েছিল ১৯১২ সালের ৭ম লন্ডন অলিম্পিয়াড৷ তাই হিসেব অনুযায়ী ১৯২০ সালের ১৪অগাস্ট থেকে ১২ সেপ্টেম্বর অবধি চলা বেলজিয়াম অলিম্পিয়াড ছিল এই ঐতিহ্যশালী প্রতিযোগিতার সপ্তম সংস্করণ৷ সেবারের প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি স্বর্ণপদক তথা পদক জিতেছিল৷
অলিম্পিয়াডের পঞ্চম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল সুইডেনে৷ ১৯১২ সালের ৫মে থেকে শুরু হয় সেই প্রতিযোগিতা এবং শেষ হয় ২২ জুলাই। সবমিলিয়ে ২৮ টি দেশ মোট ১০২টি খেলায় অংশগ্রহণ করে সেই বছর। সেবারের মোট ২৪০৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে মহিলা প্রতিযোগী ছিলেন মাত্র ৪৮ জন। এই অলিম্পিকে প্রথম এশিয় দেশ জাপান অংশগ্রহণ করেছিল। সলিড সোনার পদক পুরষ্কার হিসেবে শেষবারের জন্য দেওয়া হয়েছিল এই অলিম্পিকে৷
চতুর্থ অলিম্পিয়াড শুরু হয় ১৯০৮ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে এবং শেষ হয় ২১ অক্টোবরে৷ প্রায় ১৮৭ দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতার এই সংস্করণটি ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ অলিম্পিক্স৷ এই বছরের অলিম্পিক্স প্রথমে রোমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা লন্ডনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইতালির রাজধানীতে অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল তখন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লইসে অনুষ্ঠিত হয় অলিম্পিক্সের তৃতীয় সংস্করণ৷ ১৯০৪ সালের অগাস্ট মাসের ২৯ তারিখ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর অবধি চলেছিল এই প্রতিযোগিতা। সেই বছরই ইতিহাসে প্রথম কোনও অলিম্পিক্স আয়োজিত হয়েছিল ইউরোপের বাইরে৷ অলিম্পিক্সটির প্রস্তুতি পর্ব আয়োজিত হয়েছিল ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে৷ সেখানে পয়লা জুলাই থেকে ২৩ নভেম্বর অবধি চলেছিল একাধিক খেলাধুলা।
১৯০০ সালের ১৪ই মে থেকে ২৮ অক্টোবর অবধি চলেছিল অলিম্পিক্সের দ্বিতীয় সংস্করণ৷ ফরাসি রাজধানী প্যারিসে আয়োজিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। সেই বছরই প্রথমবারের জন্য মহিলারাও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন৷ সেলর হেলেনে ডি পৌরটালেস প্রথমবারের জন্য মহিলা অলিম্পিক বিজয়ী হন৷
১৮৯৬ সালের ৬ থেকে ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম অলিম্পিক্স আয়োজিত হয়। ১৪ টি দেশের মোট ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিল সেই প্রতিযোগিতায়। মূলত ইউরোপের ক্রীড়াবিদরাই অংশগ্রহণ করেছিলেন সেই প্রতিযোগিতায়। অ-ইউরোপোয় দেশ হিসেবে একমাত্র অংশগ্রহণ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।