অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী একজন সফল অ্যাথলেট ব্রুক স্ট্র্যাটন, অ্যাথলেটিক্সের জগতে নতুন নতুন সাফল্যের দরজা খুলে দিচ্ছেন। ভিক্টোরিয়ার নুনাওয়াডিংয়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি এই খেলায় পা রাখেন। সিডনি অলিম্পিকে ক্যাথি ফ্রিম্যানের স্বর্ণপদক জয়ের প্রেরণায় স্ট্র্যাটন সর্বদা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখেছেন।

| Season | Event | Rank |
|---|---|---|
| 2021 | Women's Long Jump | 7 |
| 2016 | Women's Long Jump | 7 |
তাঁর ক্যারিয়ার জুড়ে স্ট্র্যাটন বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। ২০১৪ সালে, তাঁর L4 ভার্টেব্রায় চাপের ফাটলের কারণে তিনি ছয় মাসের জন্য খেলা থেকে বিরত থাকেন। ২০16 সালের রিও অলিম্পিকের পর তাঁর পায়ে এবং পাবিক হাড়ে চাপের ফাটল দেখা দেয়। এই ব্যর্থতা সত্ত্বেও, ২০১৭ সালের জুনে তিনি প্রতিযোগিতায় ফিরে আসেন।
২০17 সালের সেপ্টেম্বরে, স্ট্র্যাটনের পায়ের সেসাময়েড হাড়ে চাপের ফাটল ধরা পড়ে, যার জন্য তাকে ছয় সপ্তাহ ধরে হাঁটা বুট পরতে হয়। এছাড়াও, ২০১৩ সালের এপ্রিলে তাকে সিলেক ডিজিজ এবং ২০১৭ সালে থাইরয়েডের ঘাটতি ধরা পড়ে। এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি ২০19 সালে দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার পারফর্ম্যান্সকে প্রভাবিত করে, যেখানে তিনি দশম স্থান অর্জন করেন।
স্ট্র্যাটন মেলবোর্নে তাঁর সঙ্গী নাথান বুশকুয়েলের সাথে বাস করেন, যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ট্রায়াথলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোচিং এবং এক্সারসাইজ সায়েন্সে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর ভাই জেমি এবং বোন ক্রিসটিও জাতীয় পর্যায়ে লম্বা জাম্প ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রতিযোগিতা শুরু করার আগে স্ট্র্যাটন স্নিকার্স চকোলেট বার খাওয়ার এক অনন্য রীতিনীতি পালন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ঐতিহ্য তাঁকে বছরের পর বছর ধরে ব্যক্তিগত সেরা অর্জন করতে এবং রেকর্ড ভাঙতে সাহায্য করেছে।
তাঁর অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০১৬ সালে ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ডসে স্ট্র্যাটনকে বর্ষসেরা নারী অ্যাথলেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণের প্রতি তাঁর আগ্রহের প্রমাণ হলো তাঁর মোটো: "যদি তুমি সেরা হতে চাও, তাহলে তুমি দ্বিতীয় সেরা হিসেবে প্রশিক্ষণ করো।"
২০১৯ সালে, স্ট্র্যাটন তাঁর লম্বা জাম্প রান-আপে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। তিনি এটি এক মিটারের বেশি বৃদ্ধি করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই পরিবর্তনটি তাঁর টেক-অফে গতি বৃদ্ধি করবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গেলে, তিনি ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্য রেখেছেন।
ব্রুক স্ট্র্যাটনের জীবনযাপন তাঁর স্থিতিস্থাপকতা এবং সংকল্পের প্রমাণ। বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, তিনি অ্যাথলেটিক্সে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য অবিরাম আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।