ভারতের একজন সম্ভাবনাময় শ্যুটার, এশা সিং, তাঁর খেলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছেন। ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি সেকেন্দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী, তিনি বর্তমানে হায়দ্রাবাদে বাস করেন। এশা নয় বছর বয়সে শ্যুটিং শুরু করেছিলেন এবং ২০14 সাল থেকে এই খেলায় সক্রিয়। তাঁর পিতা, সচিন সিং, একজন প্রাক্তন র্যালি ড্রাইভার, তাঁর ক্যারিয়ারের প্রতি বড় ধরনের প্রভাব এবং সমর্থন প্রদান করেছেন।

বিশ্বকাপ সিরিজে, এশা সামঞ্জস্যপূর্ণ পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন। ২০২২ সালে মিশরে কায়রোতে, তিনি মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল দল এবং মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলের ইভেন্টে সোনা জিতে নেন। তিনি মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে রৌপ্য পদকও জিতে নেন।
২০২২ সালে হাংচৌতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে তাঁর পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ। তিনি মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল দলের ইভেন্টে সোনা এবং মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল এবং মহিলাদের ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দলের ইভেন্টে রৌপ্য পদক জিতে নেন।
এশা হায়দ্রাবাদ এবং নতুন দিল্লিতে প্রশিক্ষণ নেন। তিনি স্টায়ার পিস্তল, পার্ডিনি স্পোর্টস পিস্তল এবং আরডব্লিউএস গোলাবারুদ ব্যবহার করেন। তাঁর স্ট্যামিনা এবং ভঙ্গিমা বজায় রাখার জন্য, তিনি নিয়মিত যোগাভ্যাস করেন। তাঁর কোচদের মধ্যে রয়েছেন বেদ প্রকাশ, রোনক পান্ডিত এবং সুন্দর ঘাটে।
এশা বর্তমানে হায়দ্রাবাদের মাল্লা রেড্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন পড়ছেন। শ্যুটিং ছাড়াও, তিনি গো-কার্ট রেসিং এবং স্কেচিং উপভোগ করেন। তিনি সাবলীলভাবে ইংরেজি ভাষায় কথা বলেন।
এশার পিতা, সচিন সিং, ছিলেন একজন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন র্যালি ড্রাইভার যিনি সুজুকি এবং মহিন্দ্রার হয়ে প্রতিযোগিতা করেছিলেন। এশার শ্যুটিং ক্যারিয়ার সমর্থন করার জন্য তিনি তাঁর রেসিং ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর মা শ্রীলতা।
এশার স্মরণীয় মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি হল ২০২৪ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে সোনা জিতে প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিক গেমসের জন্য কোটা স্থান নিশ্চিত করা। ২০২৪ সালে ভারতীয় খেলাধুলার প্রতি তাঁর অবদানের জন্য তিনি অর্জুন পুরষ্কারও পেয়েছিলেন।
এশা তাঁর পিতার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান। তিনি বিশ্বাস করেন যে যা করছেন তা উপভোগ করা উচিত এবং স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর পিতার শিক্ষা তাঁর ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, এশা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহিলে ৩০,০০০ টাকা দান করেছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে, ২০18 সালে তিনি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সিনিয়র বিভাগে সোনা জিতে সবচেয়ে কম বয়সী শ্যুটার হয়ে ওঠেন।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, এশার লক্ষ্য অলিম্পিক গেমসে সোনা জিতা। তাঁর নিবেদন এবং সমর্থন ব্যবস্থার মাধ্যমে, তিনি এই লক্ষ্য অর্জনের পথে সুস্থভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।