ইরানের বাম শহরের একজন অসাধারণ ক্রীড়াবিদ হাদি সায়ে, ক্রীড়ার জগতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তেকওয়ান্দোতে তার দক্ষতার জন্য পরিচিত, সায়ে ইরানে সাত বছর বয়সে এই খেলা শুরু করেছিলেন। তার নিবেদন এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলে ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জয়লাভ করেন।

| Season | Event | Rank |
|---|---|---|
| 2008 | Men Welterweight 68-80kg | G সোনার |
| 2004 | Men Featherweight 58-68kg | G সোনার |
| 2000 | Men Featherweight 58-68kg | B ব্রোঞ্জ |
সায়ের কর্মজীবন অসংখ্য সাফল্যে ভরা। ১৯৯৯/২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি কুস্তি বা ওজনোত্তোলন ছাড়া অন্য কোন খেলায় অলিম্পিক পদক জয়ী হওয়া প্রথম ইরানি ক্রীড়াবিদ। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক জয়ের মুহূর্তটি তার ক্রীড়াজীবনের স্মরণীয় ঘটনা।
সায়ে তার পিতা এবং কোচ সাইয়েদ মোহাইমেনকে কৃতজ্ঞতা জানান, কারণ তাদের উৎসাহ ও সমর্থন তার কর্মজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৯৯ সালের কানাডার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে তিনি যখন গ্রোইনের চোটে ভুগছিলেন, তবুও তিনি তার খেলায় দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।
২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বামে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, যার তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৬.৩ ছিল এবং প্রায় ৪০,০০০ মানুষ মারা যায়। এর প্রতিক্রিয়ায়, সায়ে তার পদক, সহ তার অলিম্পিক ব্রোঞ্জ পদক, নিলাম করে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন। এই দানশীলতা তার সম্প্রদায়ের প্রতি তার নিবেদনের প্রমাণ।
তেকওয়ান্দোর পাশাপাশি, সায়ে ইরানে জুনিয়র এবং ক্লাব পর্যায়ে ফুটবল খেলেছেন। তার বোন মাহরোজও তেকওয়ান্দোতে অংশগ্রহণ করেন, যা ক্রীড়ায় জড়িত এক পরিবারের প্রমাণ।
ভবিষ্যতে, সায়ে আবারও অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং অন্যান্য ক্রীড়াবিদদের কাছে তার জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার জন্য আগ্রহী। ব্যক্তিগত সাফল্য এবং সম্প্রদায়ের সেবা উভয় ক্ষেত্রেই তার নিবেদন অনেককে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।
ইরানে তেকওয়ান্দো অনুশীলনকারী এক ছোট্ট ছেলে থেকে অলিম্পিক স্বর্ণ পদক বিজয়ী হওয়ার পর্যন্ত হাদি সায়ের যাত্রা তার কঠোর পরিশ্রম এবং স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ। ক্রীড়া এবং তার সম্প্রদায়ের প্রতি তার অবদান তাকে ক্রীড়াজগতের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।