স্পিন সহায়ক উইকেটেও ভারতীয় পেসারদের রাজ, বিরাট কোহলি কী জাদু জানেন!

একটা সময় ছিল, যখন ভারতের মাটিতে তৈরি হত মন্থর ট্র্যাক। স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে ধরা হতো উপ-মহাদেশের এই ভূমিকে। এই মাটিতেই তৈরি হয়েছে এরাপল্লী প্রসন্ন, চন্দ্রশেখর, বিষেণ সিং বেদীর মতো লেজেন্ড। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতীয় ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন অনিল কুম্বলে, হরভজন সিং-রা। পিছু নিয়েছেন রবীচন্দ্রন অশ্বিন, কুলদীপ যাদবদের মতো এ প্রজন্মের ভারতীয় স্পিনাররা।

অথচ প্রতিবেশী তথা কার্যত একই জল ও হাওয়ার দেশ পাকিস্তান কিন্তু বরাবারই ফাস্ট বোলিং-এ বিশ্ব ত্রাস। আব্দুল কাদির, সাকলিম মুস্তাকদের মতো লেজেন্ডারি স্পিনারদের দেশে ইমরান খান থেকে ওয়াসিম আক্রম, শোয়েব আখতার থেকে মহম্মদ আমিররাই যে আকর্ষণের কেন্দ্রে থেকেছেন, তা বলাই বাহুল্য।

সে তুলনায় লেজেন্ড কপিল দেবের পর ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেস বিভাগে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিভার আমদানি কিন্তু বেশ কমই ঘটেছে। তবে জভাগাল শ্রীনাথ, ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ও জাহির খানের হাত ঘুরে ভারত এখন যে যুগের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে ফাস্ট বোলাররাই যে অর্জুন, তা বলা চলে। জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ শামিদের সাফল্যের খতিয়ানে বিশ্বের তাবড় ক্রিকেট খেলিয়ে দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাতে কোনও কসুর করে না ভারত। এর জন্য টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান অধিনায়ক বিরাট কোহলির দূরদৃষ্টিকে এগিয়ে রাখেন অনেকে। তা কতটা সত্যি, দেখে নেওয়া যাক।

কপিল দেব

কপিল দেব

১৯৭৮ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন কপিল দেব নিখাঞ্জ। দেশের প্রথম জেনুইন ফাস্ট বোলার তথা অল-রাউন্ডারও বলা চলে। ভারতকে ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের হয়ে ১৩১টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন হরিয়ানা হ্যারিকেন। ভারতীয় দলের হয়ে ২২৫টি ওয়ান ডে-তেও প্রতিনিধিত্ব করেন কপিল। কেরিয়ারে ৬৮৭ জন (টেস্টে ৪৩৪ ও ওয়ান ডে-তে ২৫৩) ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন ভারতীয় লেজেন্ড। তাঁকে সামনে রেখেই দেশের পরবর্তী প্রজন্মের ফাস্ট বোলাররা যে নিজেদের তৈরি করেছেন, সে কথা বললে খুব একটা ভুল হবে না।

শ্রীনাথ ও প্রসাদ

শ্রীনাথ ও প্রসাদ

কপিল দেবের পর ভারতীয় পেস বিভাগের শূণ্যতা পূরণের জন্য বহু নাম আসা-যাওয়া করলেও, তাঁদের মধ্য সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাবে আলো ছড়িয়েছেন জভাগাল শ্রীনাথ ও ভেঙ্কটেশ প্রসাদ। টেস্ট ও ওয়ান ডে মিলিয়ে ৫৫১ উইকেট (টেস্টে ২৩৬ ও ওয়ান ডে-তে ৩১৫) নেন শ্রীনাথ। অন্যদিকে ভেঙ্কটেশ প্রসাদের উইকেট সংখ্যা ৪২৪ (টেস্টে ২০৩ ও ওয়ান ডে-তে ২২১)। দুই পেসারের জুটি ছিল অনবদ্য।

জাহির খান

জাহির খান

জভাগাল শ্রীনাথ ও ভেঙ্কটেশ প্রসাদের যুগ শেষের পর অজিত আগরকার, আশিষ নেহেরারদের ভিড় ঠেলে যে নামটি বারবার ভারতীয় ক্রিকেটে উচ্চারিত হয়, তিনি বাঁ-হাতি জাহির খান। ভারতের হয়ে টেস্টে ৩১১ ও ওয়ান ডে-তে ২৮২ উইকেট নেওয়া জাহির দেশের পেস বোলিং-কে আরও একবার অন্য উচ্চতায় পৌছে দেন।

অধিনায়কদের গুরুত্ব

অধিনায়কদের গুরুত্ব

কথায় বলে, জহুরির চোখ প্রতিভাকেই চেনে। ঠিক যেভাবে কপিল দেব যুগের অবসানের পর ভারতীয় ক্রিকেটে জভাগাল শ্রীনাথ, ভেঙ্কটেশ প্রসাদদের পদধ্বনি শোনা গিয়েছিল, ঠিক তেমনই জাহির খানদের বেছেছিলেন কোনও জহুরি। তাতে দলের অধিনায়কদের গুরুত্বও অপরিসীম।

বিদায় নেওয়ার আগে জভাগাল শ্রীনাথকে হাতে ধরে ভারতীয় দলের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন কপিল দেব। দরজা খুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ঠিক একই ভাবে কেরিয়ারের একদম অন্তিম সময়ে জভাগাল শ্রীনাথের এক কথাতেই জাহির খানকে টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা দিয়েছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

বুমরা-শামিদের দাপট

বুমরা-শামিদের দাপট

এত কিছুর পরেও কোথাও যেন একটা খামতি থেকে যাচ্ছিল। ভারতের ফাস্ট বোলিং বিভাগকে যেন কিছুতেই ভরিয়ে তুলতে পারছিলেন না নির্বাচকরা। তবে অধিনায়ক বিরাট কোহলি নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়ায় সেই খামতি দূর হয়েছে তো বটেই, জসপ্রীত বুমরা-মহম্মদ শামি-ভূবনেশ্বর কুমার সম্বৃদ্ধ পেস আক্রমণ বিশ্বে ত্রাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

ভারতীয় পেসারদের রেকর্ড

ভারতীয় পেসারদের রেকর্ড

১) ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে টেস্টে ধারাশায়ী করে বিরাট কোহলি নেতৃত্বাধীন ভারত। ইতিহাসে এই প্রথমবার। এই ঐতিহাসিক জয়ের শ্রেয় দলের পেস বিভাগকেই দেন ভারত অধিনায়ক বিরাট।

২) ২০১৯ সালে টেস্টে ১৫.১৬-র গড়ে ৯৫টি উইকেট নেন ভারতীয় পেসাররা। সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৫-র মধ্যে ৩৩টি উইকেট নেন মহম্মদ শামি। ইশান্ত শর্মা ও উমেশ যাদবের ভাগ্যে জোটে যথাক্রমে ২৫ ও ২৩টি উইকেট। অন্যদিকে জসপ্রীত বুমরা ঝুলিতে রয়েছে ১৪টি টেস্ট উইকেট।

৩) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাদেরই মাটিতে টেস্টে হ্যাটট্রিক করা জসপ্রীত বুমরা, দ্রুততম ভারতীয় হিসেবে লাল বলের ক্রিকেটে ৫০ উইকেট নেন।

৪) ২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত টেস্টে ১৯ বার প্রতিপক্ষকে অল-আউট করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের পেসাররা। যা এক রেকর্ড।

ভারতীয় পেস আক্রমণ

ভারতীয় পেস আক্রমণ

টিম ইন্ডিয়ার এই প্রজন্মের পেস আক্রমণ যে বিশ্ব সেরা, তা এক কথায় মেনে নিয়েছেন ক্রিকেটের সব রথি। তাঁদের মত, যত দিন যাচ্ছে, তত ক্ষুরধার হচ্ছেন জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ শামিরা।

বিরাট কোহলির কৃতিত্ব

বিরাট কোহলির কৃতিত্ব

টিম ইন্ডিয়ার পেস বোলিং বিভাগে প্রতিভার জোয়ার আসার পিছনে অধিনায়ক বিরাট কোহলির দূরদর্শীতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। ২০১৪ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নেন বিরাট। জাহির খান যুগ শেষের পর সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট দক্ষ পেসারদের অভাবে ভুগছিল বলা চলে। নিজে ব্যাটসম্যান হয়েও ভারতীয় ক্রিকেটে কী প্রয়োজন, তা বুঝেছিলেন ভিকে। তাই শুরু থেকেই টিম ইন্ডিয়ার পেস বোলিং বিভাগকে শক্তিশালী করতে তিনি উদ্যোগী হন। বলা যায়, তাঁর তৈরি রূপরেখা ধরে এগিয়েই বর্তমানে এমন সাফল্যের মুখ দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট।

For Quick Alerts
Subscribe Now
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts
Story first published: Thursday, February 6, 2020, 17:35 [IST]
Other articles published on Feb 6, 2020
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+