অবশেষে গোল-খরা মিটল সৌদির। মিশরের বিরুদ্ধে গোলও পেলেন, সেইসঙ্গে জয়ের স্বাদও পেলেন সৌদি-ফুটবলাররা। একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোল করে সৌদিকে জেতালেন সালেম আল দশারি। এদিন দুটি পেনাল্টি পায় সৌদি। দ্বিতীয় পেনাল্টিতে এল বহুকাঙ্খিত গোল। আর একেবারে ম্যাচের শেষ মূহূর্তে মিশরের গোলে বল জড়িয়ে নায়ক হয়ে গেলেন সালেম।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে সৌদি আরব তখন ০-১ গোলে পিছিয়ে। প্রথমবার পেনাল্টি পায় সৌদি। সেখান থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ফাওহাদ। সাত মিনিট পরেই ফের পেনাল্টি। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সৌদিকে খেলায় ফেরান সলমান ফরজ। দ্বিতীয়র্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি। সবাই যখন ধরে নিয়েছেন, সম্মানরক্ষার ম্যাচ অমীমাংসিতভাবেই শেষ হতে চলেছে, তখনই মিশরের জালে বল জড়িয়ে দেন সালেম।
বিশ্বকাপের এ গ্রুপের নিয়মরক্ষার ম্যাচ ছিল এটি। তাই এই ম্যাচের ফলের উপর কোনও কিছুই নির্ভর করত না। তাই চাপমুক্ত হয়েই দুই দল খেলতে নেমেছিল। এই ম্যাচে একে অপরকে ছাপিয়ে যাবে, তুল্যমূল্য এক লড়াইের সাক্ষী থাকবে এই ম্যাচ, এমনটাই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু তা পাওয়া গেল না। সালাহ-র কাছ থেকে একটি গোল এল বটে, কিন্তু লিভারপুলের সালাহর ঝলক দেখা গেল না।
🇸🇦🇸🇦🇸🇦
— FIFA World Cup 🏆 (@FIFAWorldCup) June 25, 2018
LATE drama. @salem_d29 ensures #KSA finish their #WorldCup on a high, on day @ElHadary, became a double #WorldCup record-maker. #KSAEGY pic.twitter.com/Qoy2AzbkcC
এদিন গোল করেও নিরুত্তাপ সালাহ। প্রথমত তাঁর দল বিদায় নিয়েছে প্রতিযোগিতা থেকে, তারপর মিশরের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে নিয়েছেন সালাহ। তবু এদিন ম্যাচে গোলের পর বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচে দুটি গেল হয়ে গেল সালাহর। এই গোলের তিন মিনিটের মাথায় আরও একটি সহজ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, তা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।
সৌদি আরব এদিন মিশররে বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলই উপহার দিয়েছে। প্রথম থেকেই একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে। গোল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল সৌদি আরব। এর মধ্যে সালাহর গোলে পিছিয়ে পড়লেও পাল্টা আঘাত করতে থাকে সৌদি। তারই জেরে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে ও প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে দুটি পেনাল্টি পায়। দ্বিতীয়টিকে গোলে রূপান্তরিত করতে পারেন সৌদির ফুটবলাররা। আর শেষ মুহূর্তে আসে জয়ের গোল।
এবার সৌদি প্রথম ম্যাচেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ গোল খেয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল। সেখানেই মনোবল ভেঙে যায় এশিয়ার দেশটির ফুটবলারদের। উরুগুয়ে ম্যাচে কঠিন লড়াই উপহার দিলেও হার মানতে হয় সুয়ারেজের গোলে। এদিন শেষ ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে অন্তত স্বান্ত্বনা জয় পেল সৌদি আরব। মিশর তিন ম্যাচ হেরে গ্রুপে সবার পিছনে শেষ করত বিশ্বকাপ।