রাশিয়া মানে মনের মধ্যে ভীড় করে আসে বৈকাল হ্রদ, ব্যালে আর সাইবেরিয়ার তুষারমাখা জীবনের ছবি। এরসঙ্গে জুড়ে যায় ছোটবেলার রুশ উপকথায় পড়া চরিত্রগুলি। ক্রিসমাসের সময় তুষার মাখা পাইনগাছের পাশে স্লেজ গাড়ি চালিয়ে যাওয়া সান্তার ছবিতে ফি-বছরই মনের মণিকোঠায় জেগে ওঠে। রাশিয়ার রূপ-সৌন্দর্যে রয়েছে আরও আড়ম্বর। ছবির মতো এক সুন্দর দেশ। যার ঠান্ডা-ঠান্ডা প্রকৃতিতে ফুলে ফুলে ভরা থাকা চারপাশ। এবার ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের আসর বসেছে এই দেশে। আর এতে যেন আরও রঙিন হয়ে উঠেছে রাশিয়া।
রাস্তায় রাস্তায় বিদেশী সব ফুটবল ফ্যান। রঙ-বেরঙের সাজ তাঁদের। মনে হচ্ছে যেন রাশিয়া জুড়েই শুরু হয়েছে এক কার্নিভাল। বলতে গেলে অধিকাংশ মহাদেশের মানুষের মিলনস্থল হয়ে উঠেছে রাশিয়া। মস্কো থেকে শুরু করে সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচি- সমস্ত শহরেই একই ছবি।
ফুটবলের উন্মাদনায় ফুটপাতের উপরই বসে গিয়েছে সিম্ফনির আসর। শ্রোতা ফুটবল বিশ্বকাপের সাক্ষী হতে আসা মানুষ। আবার কোথাও বিচিত্র সব পোশাক পরে একটি দেশের সমর্থকরা বিচিত্র-কাণ্ড কারখানায় মত্ত। অন্যরা আবার সেই দৃশ্য উপভোগেও করছে।
রেস্তোরাঁ থেকে ছোট-খাটো ফুডস্টল, ফুড-হাব সবখানেই পিল-পিল করছে ফুটবলপ্রেমীরা। যারা এরমধ্যে জায়গা পাননি তারা রাস্তার উপরেই বসে পড়েছেন। কেউ বেঞ্চ পেয়েছেন-কারোর আবার তাও জোটেনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে রাশিয়াকে নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। বিদেশী ফুটবল দর্শকদের জন্য রাশিয়া মোটেও নিরাপদ নয় বলেও প্রচুর বিতর্ক তৈরি হয়। সুন্দরী রাশিয়ানরা আসলে ছলনাময়ী। কিন্তু, এখন বিশ্ব দেখছে এই অপার সৌন্দর্যের মধ্যে রয়েছে এক অসামান্য স্নিগ্ধতা, এক আবেশ- যা সত্যি সত্যি রাশিয়াকে আরও বেশি করে মায়াবি করে তোলে।
রাশিয়ার ফুটবল বিশ্বকাপের এমনই এক রঙিন ছবি ভিডিও-র মাধ্যমে ক্যামেরাবন্দি করেছেন ইনডিপেন্ডেন্ট জার্নালিস্ট অ্যালেক্স সোলোভিয়েভ। যা এক অসামান্য রাশিয়ার সন্ধান দেয়।
Tribal Moscow - World Cup from Alex Soloviev on Vimeo.