
কিং কোহলি
ক্রিকেট মাঠে ভারতের এই বছর ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটলেও ব্য়াটসম্য়ান কোহলি গোটা বছর ধরেই ছিলেন একেবারে ধারাবাহিক। বিতর্ক থাকলেও যোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই তাঁকে এই বছর ভারতীয় ক্রীড়া জগতের সর্বোচ্চ সম্মান 'রাজীব খেলরত্ন' পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ব্যাটসম্য়ান য়ত কঠিন পিচই হোক না কেন ব্য়াট করা কে একেবারে ছেলেখেলায় পরিণত করলেও ক্যাপ্টেন কোহলির সময়টা বিশেষ ভালো যায়নি। তবে বছরের শেষে অস্ট্রেলিয়ায় বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি ধরে রেখে দারুণভাবেই শেষ করেছেন বছরটা।

ভারোত্তলন
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টেই এই বছর বসেছিল কমনওয়েল্থ গেমসের আসর। ভারতের জন্য এই গেমস দুর্দান্ত ছিল। গেমসের ইতিহাসে ভারত এবার তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক পদক জিতেছে। সেরা ছিলেন ভারোত্তলকরা। এছাড়া এই বছরই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মহিলা ভারোত্তলক মীরাবাই চানুকে কোহলির সঙ্গে যুগ্মভাবে খেলরত্ন পুরস্কার দেওয়া হয়। যুব বিশ্বকাপে প্রথমবার ভারোত্তলনে সোনার পদক জিতেছেন ১৬ বছরের জেরেমি লালরিননুঙ্গা-ও।

শুটিং
শুটিং-এর জন্য এই বছরটা ছিল প্রত্যাবর্তনের বছর। ২০১৬ অলিম্পিকের খারাপ প্রদর্শনের পর এই বছর কমনওয়েল্থ, এশিয়ান গেমস ও যুব অলিম্পিকে কামাল করেছেন শুটাররা। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটি ইভেন্ট থেকেই মানু ভাকের, অনিশ ভানওয়ালা, সৌরভ চৌধুরি, শর্দুল বিহান-দের মতো একঝাঁক তরুণ শুটার উঠে এসেছেন ২০১৮ সালে।

বক্সিং
শুটিং-এ যদি একঝাঁক তরুণ উঠে আসেন, তাহলে বক্সিং-এ পুনরুত্থান ঘটেছে এক বয়স্ক তারকার। ২০১৮ সালের ভারতের বক্সিং বলতে মেরি কম ছাড়া আর কারোর কথা বলাই যাচ্ছে না। এই বছর তিনি ৪টি প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছেন। তার মধ্যে রয়েছে রেকর্ড ষষ্ঠবারজেতা বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সোনার পদকও। বয়স তাঁর ৩৫ বছর। তিন সন্তানের মা। রাজ্যসভার সাংসদ। এত কিছু দায়িত্ব সামলানোর পরেও এখনও তাঁর বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্য়াডমিন্টন
এই বছর পাঁচটি বড় প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠে পরাজিত হয়েছেন পিভি সিন্ধু। তাঁকে 'চোকার' তকমা দিয়েছিলেন কেউ কেউ। সেই সময় মুখ বুজে থাকলেও বছরের শেষে শেষ হাসিটা তিনিই হেসেছেন। বছরের শেষ ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালস-এ একের পর এক প্রথম সারির তারকাদের পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি।
খুব পিছিয়ে ছিলেন না সাইনাও। কমনওয়েল্থ গেমসে সোনা জিতেছেন, এশিয়ান গেমসে পেয়েছেন ব্রোঞ্জ। তে সবচেয়ে বড় খবর, ব্যক্তিগত জীবনে পার্টনার হিসেবে পেয়েছেন আরেক শাটলার পারুপল্লি কাশ্যপকে।

কুস্তি
কমনওয়েথ ও এশিয়াড দুই বড় গেমই সোনা জিতে ভিনেশ ফোগট নিজেকে ফোগট বোনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছেন। আর মেন্টর তথা লডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ-জয়ী যোগেশ্বর দত্তর ছায়া থেকে বার হয়ে নতুন তারকা হিসেবে উঠে এসেছেন বজরং পুণিয়া। তিনিও দুই গেমসেই স্বর্ণপদক জিতেছেন। সেইসঙ্গে বিশ্বচ্যাম্পিয়নে রুপো জিতেছেন। জোড়া অম্পিক পদকজয়ী সুশীল কুমারের যদিও বছরটা মোটেই ভাল যায়নি।

টেবল টেনিস
টেবিল টেনিসে বছরের চেয়ে বড় খবর মনিকা বাত্রার উত্থান। দিল্লির এই টেবিল টেনিস খেলোয়াড় এই বছর কমনওয়েল্থে দুটি সোনা-সহ মোট ৪টি পদক জিতেছেন। যার মধ্যে এশিয়াডে শরথ কমলের সঙ্গে জুটিতে জেতা ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদকও রয়েছে।

অ্যাথলেটিক্স
অ্যাথলেটিক্স জগতে নিজেকে তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন নীরজ চোপড়া। কমনওয়েল্থ ও এশিয়াড দুটি প্রতিযোগিতাতেই তিনি রেকর্ড সহ সোনা জিতেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর উত্থানে ভারত ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে অ্যাথলেটিক্সে পদক জেতার আশা করছে।
এছাড়া স্প্রিন্টিং-এর নতুন রাণি হিসেবে উঠে এসেছেন অষ্টাদশী হিমা দাস। অনুর্ধ্ব-২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি সোনা জিতেছেন। এটিই কোনও পর্যায়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মহিলাদের ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের জেতা প্রথম সোনা।

হকি
এই বছরটা ভারতীয় হকির জন্য মোটেই ভাল যায়নি। কমনওয়েল্থ-এ পদক আসেনি। এশিয়াডে কোনওক্রমে জুটেছে ব্রোঞ্জ। হকি বিশ্বকাপেও কোয়ার্টারফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। মহিলা দলও কমনওয়েলথে কোনও পদক জিততে পারেনি তবে এশিয়াডে ২০ বছর পর ফাইনালে উঠে রুপো জেতে।

অন্যান্য খেলা
ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই পঙ্কজ আদবানি এই বছর ব্রিলিয়ার্ড ও স্নুকার মিলিয়ে তাঁর ২১ তম বিশ্ব খেতাব জিতেছেন। গলফ কোর্সে কিন্তু উদয় হয়েছে এক নতুন তারকার। মে ব্য়াঙ্ক মালয়েশিয়া ওপেন খেতাব জেতার পাশাপাশি এই বছর তিনি এশিয়ান ট্যুর অর্ডার অব মেরিট ও ইউরোপিয়ান ট্যুর রুকি অব দ্য ইয়ার খেতাব জিতেছেন।


Click it and Unblock the Notifications




















