রূপান্তরকামী বা ট্রান্সজেন্ডার (Transgender) অ্যাথলিটরা আর মহিলাদের কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিল বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স। প্লাজমা টেস্টোস্টেরনের মাপকাঠির মাত্রার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। অ্যাথলেটিক্সের আসরে মহিলাদের বিভাগকে সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ।
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স (World Athletics)-এর সভাপতি সেবাস্টিয়াম কো জানিয়েছেন, পুরুষ বয়ঃসন্ধির অভিজ্ঞতা থাকা ট্রান্সজেন্ডার মহিলারা এবার থেকে মহিলাদের ইভেন্টে অংশ নিতে পারবেন না। এতে মহিলা অ্যাথলিটদের স্বার্থ আরও বেশি সুরক্ষিত হবে। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স কাউন্সিল যৌন বিকাশে পার্থক্য থাকা (Differences in Sex Development) অ্যাথলিটদের প্লাজমা টেস্টোস্টেরনের সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি লিটারে ৫ থেকে কমিয়ে আড়াই ন্যামোমোলসে নামিয়ে আনারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই নবনির্ধারিত মাত্রার মধ্যে টেস্টোস্টেরন লেভেল নামিয়ে এনে ন্যূনতম ২৪ মাস তা বজায় রাখতে হবে কোন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে। ফলে এই সময়সীমাও আগের তুলনায় দ্বিগুণ বাড়ানো হলো। ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথটিলদের মহিলাদের বিভাগে নামা নিষিদ্ধ করার আগে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের জেনারেল বডির মধ্যে আলোচনা চলছিল যে,টেস্টোস্টেরন মাত্রা ২৪ মাস ধরে প্রতি লিটারে আড়াই ন্যানোমোলসে রাখলে তবেই ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলিটরা মহিলাদের কোনও ক্যাটেগরিতে অংশ নিতে পারবেন। এই প্রস্তাবের সপক্ষেও কিছু মতামত উঠে আসে। যদিও শেষমেশ নিষেধাজ্ঞাই জারি হয়।
সেবাস্টিয়ান কো আরও জানিয়েছেন, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলিটের নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি হবে। কোন কোন ধরনের নিয়ম চালু দরকার বা কোন ধরনের পরিবর্তন আনার দরকার সে বিষয়ে এই ওয়ার্কিং গ্রুপের মতামতকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। মহিলা অ্যাথলিটদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই যাবতীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন কো। তাঁর কথায়, এই বিষয়ে এখনও অনেক কিছু অজ্ঞাত। সে কারণেই ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন।
নতুন এই বিধিনিষেধ জারির ফলে কয়েকজন তারকাও সমস্যায় পড়তে চলেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিকে ৮০০ মিটারে দুবারের চ্যাম্পিয়ন ক্যাস্টার সেমেন্যা, ২০০ মিটারে ২০২০ অলিম্পিকের রুপোজয়ী ক্রিশ্টিন এমবোমা, ২০১৬ সালের অলিম্পিকে ৮০০ মিটারে রানার-আপ হওয়া ফ্র্যানসিন নিওনসাবার মতো ডিএসডি অ্যাথলিটরা। রেস্ট্রিক্টেড ইভেন্টের বাইরে অংশ নিচ্ছেন এমন অ্যাথলিটদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা করেছে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স। সেক্ষেত্রে তাঁদের ছয় মাসের জন্য টেস্টোস্টেরন লেভেল নতুন মাত্রার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তবে এর ফলে অনেক অ্যাথলিটই বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারবেন না।