অস্ট্রেলিয়া সফর, ৩য় টি২০: বিরাট অর্ধ শতরান! কর্তৃত্ব দেখিয়ে সিরিজ অমিমাংসিত রাখল ভারত

শেষ পর্যন্ত জয় হল বিরাট-বাহিনীর অঙ্গীকারের। প্রথমে ক্রুণাল পাণ্ডিয়া ও কুলদিপের স্পিনের দাপটে অস্ট্রেলিয়াকে ১৬৪ রানে বেঁধে রেখে তারপর, শিখর ধাওয়ান (২২ বলে ৪১) ও বিরাট কোহলি (৪১ বলে ৬১) -র চওড়া ব্যাটে ৬ উইকেটে জিতল ভারত। ফলে সিরিজ হার রুখে দিয়ে ভারত ১-১ ফলে অমিমাংসিত রাখল অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রথম সিরিজটি।

তবে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের পর যতটা সহজে ভারতের জয় আসবে বলে মনে করা গিয়েছিল, ততটা সহজ হয়নি। সৌজন্যে মিচেল স্টার্ক ও জাম্পার ভাল বোলিং এবং ভারতের ব্যাটিংয়ের মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। এদিনও রান পেলেন না লোকেশ রাহুল (২০ বলে ১৪) ও ঋষভ পন্থ (১ বলে ০)। তাঁরা দুজনেই এরপর টেস্ট সিরিজেও ভারতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন। তাই, জয়ের আনন্দের মধ্যেও ভারতের জন্য এই চিন্তাটুকু রয়েই গেল।

এদিন ভারতের ইনিংসের শুরুর দিকে প্রায় দুবছর পর টি২০আই ম্যাচে ফিরে এসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বেশ বিব্রত করেছিলেন মিচেল স্টার্ক। তবে অপর প্রান্তে নাথান ক্যুল্টার নাইল যোগ্য সহায়তা দিতে না পারায় ভারতের উপর সেভাবে চাপ তৈরি হয়নি। রোহিত ও শিখর নাইলের বল ইচ্ছামতো মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন।

তাঁর বদলে ফিঞ্চ আক্রমণে এনেছিলেন স্টইনিসকে। কিন্তু তাঁর সেই ওভার থেকে ভারতীয় ওপেনাররা ২২ রান তোলেন। সেই সময়ে ভারত ওভার প্রতি প্রায় ১২ রান করে তুলছিল! তবে অজিদের প্রয়োজনীয় হ্রেক থ্রুটা দিয়েছিলেন সেই অভিজ্ঞ স্টার্ক। ষষ্ঠ ওভারে ২টি ছয় ও ৬টি চার মেরে ক্রমশ অতি ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া শিখরকে তিনি ফিরিয়ে দেন। একেবারেই একটি স্টার্ক-সূলভ একটি ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে তিনি গব্বরকে এলবিডব্লিউ করেন।

এরপর স্টার্কের হাত থেকে ব্যাটন তুলে নিয়েছিলেন অজি স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। সপ্তম ওভারে তিনি একটিও রান না দিয়ে ফিরিয়ে দেন রোহিত শর্মা (১৬ বলে ২৩)-কে। সেই সময় ভারতের রান ছিল ৭ ওভারে ২ উইকেটে ৬৭।

এরপর জাম্পা ও ম্যাক্সওয়েল ভারতের রান তোলার গতিতে ব্রেক লাগান। কোহলি ও কেএল রাহুলের সেইসময় খুচরো রান ছাড়া গতি ছিল না। কিন্তু অধৈর্য হয়ে মারতে গিয়ে ম্যাক্সওয়েলের বলে ডিপ মিডউইকেট এলাকায় ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রাহুল।

ভারতের প্রথম ম্যাচে হারের জন্য অনেক ভারতীয় সমর্থক শনিবারই পন্থকে দায়ী করেছিলেন। এদিন কিন্তু তিনি প্রথম বলেই উইকেটের পিছনে ক্য়াচ দিয়ে গোল্ডেন ডাক করে ফিরে যান। বোলার ছিলেন টাই।

এরপর ভারতকে ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব ছিল কোহলি ও নিহাস ট্রফির ফাইনালের নায়ক দীনেশ কার্তিকের কাঁধে। শেষ ৪ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। এই দুই অভিজ্ঞ ব্য়াটসম্য়ান কাজটা শেষ করেই মাঠ ছাড়েন। কার্তিক করেন ১৮ বলে ২২ রান। একটা সময় ভারতের ১৪ বলে ২২ রান দরকার ছিল। চাপের মুখে ৬ মেরে ভারতকে ম্যাচে ফেরান ডিকে। শেষ পর্যন্ত ২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায় ভারত।

তবে এদিনেটি ছিল প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার। ভারতীয় পেসারদের ব্যর্থতার বিরল দিনে জ্বলে ওঠেন তিনি ও কুলদীপ। ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ডার্সি শর্ট (২৯ বলে ৩৩), গ্লেন ম্য়াক্সওয়েল (১৬ বলে ১৩), ম্যাকডারমট (১ বলে ০), অ্যালেক্স কেরি (১৯ বলে ২৭)। এটাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনও স্পিনারের সেরা বোলিং পরিসংখ্য়ানও বটে।

তবে ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ (২৩ বলে ২৮)-কে ফিরিয়ে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাতটা হেনেছিলেন কুলদীপ। এদিন ফিঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৪ ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতিও থমকে দিয়েছিলেন তিনি।

ওয়েস্টইন্ডিজ-এর বিরুদ্ধে ওয়ানডে ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর টি২০ সিরিজের একেবারে শেষ ম্যাচে রানে ফিরেছিলেন শিখর ধাওয়ান। অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টি-বিনিত সিরিজে প্রথম ম্যাচে ৪২ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলার পর এদিনও ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন শিখরই। তাই তাঁকেই এই সিরিজেরসেরা খেলোয়াড় বেছে নেওয়া হয়েছে।

For Quick Alerts
Subscribe Now
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts
Story first published: Sunday, November 25, 2018, 17:01 [IST]
Other articles published on Nov 25, 2018
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+