
দৃশ্য ১
২০১৬-র ৩১ মার্চ, মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। কিন্তু আন্দ্রে রাসেল ও লেন্ডল সিমন্সের ঝড়ো ব্যাটিং-র সৌজন্যে ভারতের দেওয়া সেই রানের পাহাড় টপকে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেশের মাটিতে ম্যাচ হেরে মুশড়ে পড়েছিল টিম ইন্ডিয়া।

দৃশ্য ২
ম্যাচ শেষের পর সাংবাদিক বৈঠকে বসেছিলেন টিম ইন্ডিয়ার সেই সময়ের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। অস্ট্রেলিয়ার এক সাংবাদিক ধোনিকে ক্রিকেট থেকে অবসরের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেন দেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক। ওই সাংবাদিককে ডেকে পাশে বসান মাহি। উল্টে ভারতীয় কিংবদন্তি ওই সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন যে তাঁর কী মনে হয় তিনি আনফিট। ওই সাংবাদিক না-সূচক উত্তর দিতেই ধোনি তাঁকে ফের প্রশ্ন করেন যে তাঁর ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা উচিত নয় কি? এক্ষেত্রেও ওই সাংবাদিক সম্মতি সূচক উত্তর দিতেই তাঁর এই প্রশ্ন যে সময়ের নিরিখে উপযুক্ত নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এমএস ধোনি।

দৃশ্য ৩
২০১৭-র জানুয়ারি ভারতের ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ছাড়েন মহেন্দ্র সিং ধোনি। বলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে তিনি টিম ইন্ডিয়ার নতুন অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে, তাঁর দল তৈরির জন্য উপযুক্ত সময় দিয়েছেন।

দৃশ্য ৪
২০১৯-র জুলাই। ইংল্যান্ডে হওয়া ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় ভারত। সেদিন শত চেষ্টা করেও দলকে জেতাতে পারেননি ধোনি। এরপর তিনি ক্রিকেট থেকে কার্যত সন্ন্যাস নিয়ে নেন। ইতিমধ্যে বিসিসিআই-র বার্ষিক আর্থিক চুক্তি থেকে বাদ পড়েন এমএস। ভারতীয় দলে ফের জায়গা পেতে ধোনিকে আইপিএলে পারফর্ম করতে হবে বলে জানিয়ে দেন বিসিসিআই-র নির্বাচক প্রধান সুনীল যোশী।

দৃশ্য ৫
আইপিএলে মহেন্দ্র সিং ধোনির জবাব দেখার জন্য মুখিয়ে ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন মাহি। কিন্ত করোনা ভাইরাসের জেরে আইপিএল পিছিয়ে যাওয়ায় দেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেট অধিনায়কের প্রত্যাবর্তন যে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল, তা বলা চলে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবেন কি ধোনি
এই ইস্যু নানা মুনি তাঁদের নানা মত দিয়েছেন। লেজেন্ড সুনীল গাভাসকর, বীরেন্দ্র শেহওয়াগদের যেমন মনে হয় যে অনেক হয়েছে, এবার ধোনির অবসর নিয়ে নেওয়াই উচিত। আবার ইরফান পাঠান, আকাশ চোপড়া, ওয়াসিম জাফরের মতো প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারদের মত আবার ভিন্ন। যদিও এই মুহূর্তে এমএসের বিকল্প হিসেবে ভারতীয় দলে কেএল রাহুল, ঋষভ পন্থরা চুটিয়ে খেলছেন। কোনও অঘটন না ঘটলে তাঁদের সরিয়ে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলে ধোনির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা যে কম, তা মেনে নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


Click it and Unblock the Notifications



















