
দল নির্বাচন
ভারতের একদিনের দলে চার নম্বরের রায়ডুর নিজের জায়গা পাকা করার জন্য অনেকেই অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে কৃতিত্ব দেন। এশিয়া কাপের অনেকেই লোকেশ রাহুলকে খেলানোর কথা বললেও রোহিত ম্যাচের পর ম্যাচ রায়ডুকে খেলিয়ে তাঁকে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন। একই ছবি দেখা গেল অফ ফর্মে থাকা শিখর ধাওয়ানের ক্ষেত্রেও। টি২০ সিরিজে ৩ ম্যাচ ধরে তাঁর উপর আস্থা রাখলেন, শেষ ম্যাচে রানে ফিরলেন গব্বর। যা অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে ভারতকে স্বস্তি দেবে।
অপরপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পর পর তিন সিরিজে কোহলির দল নির্বাচনে অধৈর্যের ছাপ দেখা গিয়েছে। কেউ এক ম্যাচ ব্য়র্থ হলেই তাঁকে সরিয়ে নতুন কাউকে পরের ম্যাচে খেলিয়েছেন কোহলি। ইংল্যান্ডে ভারতের হতশ্রী পারফরম্যান্সের পিছনে এটাকে বড় কারণ ধরা হয়।

কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা
রবিবার রাতেও রোহিত শর্মা প্রমাণ করেছেন যে কঠিন পরিস্থিতি তিনি স্বচ্ছন্দে সামলাতে পারেন। আইপিএল-এ একাধীকবার দেখা গিয়েছে, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তার নেওয়া সিদ্ধান্ত ম্যাচের ভবিষ্যত পাল্টে দিয়েছে। অন্যদিকে, কোহলি প্রায়ই কঠিন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন না। ইংল্যান্ডের প্রবাদপ্রতীম অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি কোহলি সম্পর্কে বলেছেন দল বিপদের মুখোমুখি হলে কোহলির অধিনায়কত্ব থেকে আগ্রাসন চলে য়ায়। বর্তমান ভারত অধিনায়ক অবশ্য মাঠে ধোনিকে পান পরামর্শদাতা হিসেবে। কিন্তু ধোনি চিরকাল থাকবেন না।

বড় টুর্নামেন্ট জয়ের অভিজ্ঞতা
রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৩ বার আইপিএল ট্রফি জিতেছে। ভারতকে এশিয়া কাপেও চ্যাম্পিয়ন করেছেন। অন্যদিকে, নেতা হিসাবে কোহলি কিন্তু এখনও কোনও বড় টুর্নামেন্ট জিততে পারেননি। তার অধিনায়কত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দুবার আইপিএল-এর ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে পারেনি। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭-র ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত জঘন্যভাবে হারে। রোহিতের কিন্তু কোহলির থেকে ট্রফি জয়ের রেকর্ড অনেক উন্নত।

খেলোয়াড়দের সুদক্ষ ব্যবহার
বলা হয় একজন ভাল অধিনায়কই তাঁর দলের ক্রিকেটারদের থেকে সেরাটা বের করে আনতে পারেন। ২০০৭-এ একেবারে অপরিচিতদের নিয়ে গড়া ভারতীয় দলকে নিয়ে ধোনি কিভাবে টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন মনে করুন। প্রত্যেকের উপর আস্থা রেখে তাদের শক্তি অনুযয়ী কাজে লাগিয়েছিলেন ধোনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় নিয়েও কোহলি কিন্তু দলকে ট্রফি দিতে পারেননি। কোহলি সেরা ব্যাটসম্যান হলেও খেলোয়ারদের শক্তি বিচারে কিন্তু তাঁর দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়নি। রোহিত শর্মা কিন্তু গড়পড়তা খেলোয়াড়দেরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে দেখিয়েছেন। এই কারণেই বেঙ্গালুরুর মতো বড় নাম না নিয়েও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স তিনবার আইপিএল জিতেছে।

জয়ের হার
ক্রিস গেইল, মিচেল স্টার্ক, এবি ডিভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলি নিজে থাকা সত্ত্বেও রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জয়ে শতকরা হার মাত্র ৪৮.১৭। অন্যদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স জয়ের শতকরা হারে আইপিএল-এ রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের পরেই। তারা ৫৭.০১ শতাংশ ম্যাচে জয়ী হয়েছে। কাজেই জয়ের হারেও স্পষ্টতই ক্যাপ্টেন রোহিত এগিয়ে আছেন জাতীয় দলের নিয়মিত অধিনায়কের থেকে।


Click it and Unblock the Notifications




















