
প্রেক্ষাপট
ক্রিকেটের শুরু যেখানে সেই ইংল্যান্ডেই ১৯৭৫ সালে বসেছিল প্রথম সীমিত ওভারের বিশ্বকাপের আসর। ১৯৭৯ ও ১৯৮৩ সালেও ইংল্যান্ডেই আয়োজিত হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকাপ। কিন্তু তিন বারই ব্রিটিশদের নাকের উপর দিয়ে কাপ তুলে নিয়ে যায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত। এমনকী এরপরও একাধিকবার নক আউট স্টেজে পৌঁছেও খালি হাতেই ফিরতে হয় ইংরেজদের। ১৯৯৯ সালে দেশের মাটিতে আরো একবার সুযোগ পেয়েও সমর্থকদের হতাশই করেছিল ইংল্যান্ড। ২০ বছর পর ফের দেশের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ এবার আর বাইরে যেতে দিতে চান না ইয়ন মর্গ্যানরা।
অন্যদিকে, সাদা-কালো নিয়ে দ্বন্দ্বে ঐতিহাসিক বয়কট মুভমেন্টকে ঘিরে ১৯৭০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইসিসি। ২১ বছর পর ফের মূলস্রোতে ফেরে ওই দল। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেয় প্রোটিয়াসরা। তারপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স দেখিয়েও নক আউট স্টেজ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে নেলসন ম্যান্ডেলার দেশকে। তাই তাঁদের নামের পিছনে জুড়ে যাওয়া 'চোকার্স' তকমা এবার মুছতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ব্যাটিং
ইন-ফর্ম জোস বাটলার, জেসন রয়, জো রুটদের পাশাপাশি অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান, জেমস ভিন্সের ফর্মও ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের নিশ্চিন্ত করেছে। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজেও ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের দাপুটে পারফরম্যান্স ক্রিকেট বিশ্বের নজর কেড়েছে। প্রায় প্রতি ম্যাচেই তিনশোর উপর রান তুলেছেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।
অন্যদিকে, অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি, হাসিম আমলা, ডেভিড মিলার, কুইন্টন ডি ককের পাশাপাশি এইডেন মার্করাম, রেইসে ভ্যান ডার ডুসেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের হৃৎপিণ্ড। আইপিএলে উইকেটরক্ষক ডি ককের ডেস্ট্রাকটিভ ব্যাটিং তো বিশ্বের তাবড় বোলারদের দুশ্চিন্তার কারণ।

বোলিং
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সদ্য শেষ হওয়া ওয়ান ডে সিরিজে চোখ ধাঁধানো প্রদর্শন করেছেন লিয়াম প্লাঙ্কেট, মার্ক উড ও আদিল রশিদ। বিশ্বকাপেও তাঁদের এমন পারফরম্যান্স বজায় থাকলে মুশকিলে পড়তে পারেন যে কোনো ব্যাটসম্যান।
অন্যদিকে, চোটগ্রস্ত হলেও অভিজ্ঞ ডেল স্টেইন যে এখনও কতটা ভয়ঙ্কর, তা তিনি আইপিএলে দুটি ম্যাচ খেলেই বুঝিয়েছেন। আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ইমরান তাহির, দ্বিতীয় কাগিসো রাবাদার সঙ্গে লুঙ্গি এনগিদি, তাবারেজ শামসিদের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ঝড় তুলতে পারে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

অল-রাউন্ডার
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার বেন স্টোকস, মইন আলি, ক্রিস ওকস, টম কুরান। তাঁদের পাশাপাশি লিয়াম ডাওসন, জোফ্রা আর্চাররাও হাত ঘোরানোর পাশাপাশি ব্যাট চালানোর দক্ষতা রাখেন।
অভিজ্ঞ জেপি ডুমিনি, ক্রিস মরিসদের পাশাপাশি তরুণ অল-রাউন্ডার ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, আনদিলে ফেলুকাওয়া-রা বিশ্বকাপে প্রোটিয়াসদের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বলেই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদার ধারণা।

ফিল্ডিং
জন্টি রোডসের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা হিসেবেই বিবেচিত হয়।

পরিবেশ
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় এ ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। তবে দেশের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়াদের মধ্যে বিরূপ প্রভাবও ফেলতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ
ইয়ন মর্গ্যান (অধিনায়ক), জোস বাটলার (উইকেটরক্ষক), জেসন রয়, জো রুট, জনি বেয়ারস্টো, বেন স্টোকস, মইন আলি, ক্রিস ওকস, টম কুরান, লিয়াম প্লাঙ্কেট, ডেভিড উইলি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য প্রথম একাদশ
ফাফ ডুপ্লেসি (অধিনায়ক), হাসিম আমলা, ডেভিড মিলার, রেইসে ভ্যান ডার ডুসেন, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), জেপি ডুমিনি, ক্রিস মরিস, আনদিলে ফেলুকাওয়া, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি।


Click it and Unblock the Notifications



















