ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হারে এত সমালোচনা কেন? আর পাকিস্তান বিশ্বকাপে টিকল কী না তাতে আমাদের কী?

অবশেষে থামল বিরাট কোহলির অশ্বমেধের ঘোড়া। রবিবার, ৩০ জুন, এজবাস্টনে আয়োজক দেশ ইংল্যান্ডের কাছে ৩১ রানে হেরে বিশ্বকাপ ২০১৯-এ প্রথম ম্যাচ হারল প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৩৩৭ রান করে ইংল্যান্ড, ৭ উইকেটের বিনময়ে। জবাবে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট খুইয়ে ভারত করে ৩০৬। শতরান করেন ওপেনার রোহিত শর্মা এবং অর্ধশতরান করেন কোহলি। এই নিয়ে এই বিশ্বকাপে তিনটি শতরান হাঁকালেন রোহিত এবং পর পর পাঁচটি ম্যাচে পঞ্চাশ করে ফের একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন ভারত অধিনায়ক।

তবে এই দিন ভারতের হারের পরে প্রতিক্রিয়া কম দেখা দেয়নি। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও কেদার যাদবের শেষের দিকে শ্লথ পার্টনারশিপ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাকিস্তানি সমর্থকরাও কারণ ইংল্যান্ডের এই জয়ে পাকিস্তানের সেমি-ফাইনালের পথ বেশ দুর্গম হয়ে গেল। এখন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে যদি ইংল্যান্ড হারে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যদি তারা জেতে, তবেই সরফরাজ আহমেদের দল সেমি-ফাইনালে পৌঁছনোর আশা করতে পারে।

একটি ম্যাচ হারলে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না

একটি ম্যাচ হারলে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না

প্রশ্ন হল, ভারতের একটি হারেই এত সমালোচনা কেন? প্রথম ছ'টি ম্যাচে পাঁচটি জিতে ভারত এটা প্রমাণ করেছে যে তারা এই বিশ্বকাপকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করতে এখন দরকার মাত্র একটি পয়েন্ট। ম্যাচ তাদের বাকি রয়েছে দু'টি -- বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। সুতরাং এই হারের পরেও তাদের সেমি-ফাইনালে যাওয়া আটকাচ্ছে না সেটা তাদের অতি বড় শত্রুও বলতে পারবে না।

ইংল্যান্ডকে তাদের প্রাপ্য কৃতিত্বটুকু দিতেই হয়

ইংল্যান্ডকে তাদের প্রাপ্য কৃতিত্বটুকু দিতেই হয়

যাঁরা ভারতের এই পরাজয়ে দুষছেন কোহলির দলের শেষদিকের ব্যাটিংকে (কেউ আবার দুষছেন এদিনের কমলা-নীল জার্সিকেও), তাঁদের মনে রাখা উচিত যে বিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড, যাদের এই কয়েকদিন আগেও এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী বলে ধরা হচ্ছিল। আচমকা দু'টি ম্যাচ পর পর হেরে গিয়ে তারা সাময়িক সমস্যাতে পড়লেও থ্রি লায়ন্স-দের যে মানাবনোতি হয়নি, সেটা বলাই বাহুল্য। রবিবার দলে জেসন রয়কে ফিরিয়ে নিয়ে এসে পূর্ণ উদ্যোগে ঝাঁপায় ইংল্যান্ড কারণ এটা ছিল তাদের মরণ-বাঁচন ম্যাচ। টস জেতার ফলে তাদের কাজ আরও সহজ হয়ে যায়। ভারতের পরাজয়তে ধোনি-কেদারদের না দুষে ইংল্যান্ডকে তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়াটা অবশ্যই জরুরি। আর ভারতের পক্ষে এই হার তাদের 'ল অফ এভারেজ'-এর ভ্রুকুটি থেকে বাঁচিয়ে দিল। নক-আউটে আচমকা হেরে যাওয়ার থেকে লিগ পর্যায়েই একটি ম্যাচ হারা ভালো। কোহলির দল এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে শিগগিরই ফিরবে মঙ্গলবারের ম্যাচে, এই বার্মিংহামেই।

পাকিস্তান যদি যথেষ্ট জয় না পেয়ে থাকে, সেটা তাদের সমস্যা

পাকিস্তান যদি যথেষ্ট জয় না পেয়ে থাকে, সেটা তাদের সমস্যা

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সমর্থকদের মুখে ভারতের হারের ফলে হা-হুতাশ শোনার কোনও প্রয়োজন ভারতের সমর্থকদের নেই। ভারত এখানে নিজের খেলা খেলতে এসেছে এবং পাকিস্তান বা বাংলাদেশ বিশ্বকাপে টিকে রইল কী না, তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই, থাকার কথাও নয়।

পাকিস্তানের যে প্রাক্তন ক্রিকেটার কয়েক দিন আগে মন্তব্য করেছিলেন যে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিতে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে হারবে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার কাছে, তাঁর মনে রাখা উচিত এখন যে ভারতের নিজের সেমি-ফাইনালের জায়গা পাকা করতে ওই ম্যাচ দুটিতে জেতা প্রয়োজন। পাকিস্তান বিশ্বকাপে থাকল কি না, সেই নিয়ে দাড়িতে হাত বোলাবার সময় ও ইচ্ছে ভারতের নেই। শুধু শুধু অন্যের উপরে নির্ভর না করে থেকে পাকিস্তানের উচিত ছিল আগে আরও ম্যাচ জেতার, যা তারা

করেনি। তার জন্যে নিশ্চই তারা ভারতকে দোষ দিতে পারে না।

[আরও পড়ুন:বিশ্বকাপের সমস্ত খবর দেখুন একনজরে]

For Quick Alerts
Subscribe Now
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts
Story first published: Monday, July 1, 2019, 12:11 [IST]
Other articles published on Jul 1, 2019
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+