রবিবার, ১৪ জুলাই, ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে এক অভাবনীয় জয় পেল আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড। প্রথমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে নিউজিল্যান্ডের করা ৮ উইকেটে ২৪১ রানের জবাবে নিজেদের ইনিগসের শেষ বলে ২৪১ রানেই শেষ হয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা। খেলা এরপরে গড়ায় সুপার ওভারে এবং সেখানেও দু'দলই ১৫ রান তোলে এক ওভারে কিন্তু শেষ হাসি হাসেন ইংরেজরা কারণ পুরো ম্যাচে তাঁদের ব্যাট থেকে এসেছে বেশি সংখ্যক বাউন্ডারি -- ২৪টি। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা সেখানে মারতে পেরেছেন ১৭টি বাউন্ডারি। যদিও ক্রিকেট বিশ্বের অনেকেই এই নিয়মকে তুলোধোনা করেছেন, অভিযোগ করেছেন যে খেলাটিকে ব্যাটসম্যানদের পৈতৃক সম্পত্তি করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নিয়ম তো নিয়মই আর সেই নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন চ্যাম্পিয়ন।
ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কাছে এই বিশ্বকাপটি সোনার জলে লেখা থাকবে বহুদিন। ফর্মে থাকা ইংল্যান্ড এবারে ঘরের মাঠে বাজিমাত করবে বলে প্রথমেই অনেকে বললেও টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে পর পর দু'টি খেলা হেরে ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনালে ওঠাই অনিশ্চিত হয়ে পরে। কিন্তু শেষ দু'টি ম্যাচে ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তারা সেমি-ফাইনালে ওঠে এবং শেষ চারের লড়াইতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে চতুর্থবার বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রবেশ করে। যদিও এই চতুর্থ ফাইনালটির ছাড়পত্র তারা পায় দীর্ঘ ২৭ বছর পর।
Please enjoy this video of my grandmas reaction to England winning cricket world cup🤩 #CWC19Final pic.twitter.com/EH1bOae9v8
— Gwen (@gwenfs1) July 14, 2019
ইংল্যান্ডের উইকেটরক্ষক জস বাটলার যখন সুপার ওভারের শেষ বলে মার্টিন গাপ্টিলকে রান আউট করছেন, তখন উচ্ছাসে ফেটে পড়েন ইংল্যান্ডের সমর্থকরা। এবং নিজের বাড়ির ড্রইংরুমে বসে আত্মহারা হয়ে পড়েন এক বয়ষ্ক ইংরেক মহিলাও।
ফাইনালের পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ওই ইংরেজ ঠাকুমার কাণ্ড। ম্যাচের যখন টানটান অবস্থা, তখন গোলাপি পোশাক পরিহিতা ওই মহিলাকে দেখা গিয়েছে বুকে হাত দিয়ে জ্বলজ্বল চোখে টিভির পর্দায় চোখ রাখতে। তাঁর পাশেই বসেছিলেন এক বয়ষ্ক ভদ্রলোক, হয়তো তাঁর স্বামী। আর বৃদ্ধার কোনও এক দুষ্টু আত্মীয় ভিডিও করছিলেন তাঁর কারবার, তাঁর অজান্তেই।
গাপটিল যেই মুহূর্তে রান আউট হন এবং ইংরেজ খেলোয়াড়রা জেতার আনন্দে ছুটতে থাকেন, খুশিতে বাঁধনহারা হয়ে পড়েন ভিডিওর ওই ঠাকুমাও। "আউট, হি ইজ আউট! যাব ওই ওয়ান? আই নো হে ইজ আউট!" বালিকাসুলভ উচ্ছাসে চিৎকার করে ওঠেন মহিলা, সঙ্গে সঙ্গে করতালিও দিতে থাকেন। তাঁর আশেপাশে বসে থাকা প্রিয়জনরা তখন হাসছেন। যদিও তখনও অনেকে জানে না যে ইংল্যান্ড কিভাবে জিতল কারণ সুপার ওভারটিও টাই হয়েছে, কিন্তু ইংরেজ ওই মহিলার আবেগ দেখে অনেকেই আপ্লুত হয়ে পড়েছেন। ওই মহিলা হয়তো কম বয়স থেকেই দেখে আসছেন তিন তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাস্ত হতে, তাই শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন সফল হতে দেখে নিজের আবেগকে আর ব্যাগ মানাতে পারেননি।
ভারত যখন বিশ্বকাপে চুটিয়ে খেলছিল, তখন এক ৮৭ বছর বয়সী প্রবাসী মহিলাকে দেখা গিয়েছিল রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের দেশকে সমর্থন করতে। এমনকি অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং সহ-অধিনায়ক রোহিত শর্মাও তাঁর সঙ্গে গিয়ে দেখা করে আসেন, তাঁর আশীর্বাদধন্য হন। এই ইংরেজ মহিলার ভিডিওটি নিমেষে সেই চারুলতা প্যাটেলের কথাই মনে পরিয়ে দিল।