
গুরুত্বপূর্ণ টস
৮৬ হাজারেরও বেশি দর্শকে পরিপূর্ণ ঘরের মাঠ মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ক্রিকেটাররা যে এগিয়ে ছিলেন, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে টসে জেতাটা অজি শিবিরের কছে আশীর্বাদের মতো কাজ করে। যেন এমন মুহূর্তের অপেক্ষাতেই ছিলেন আলিসা হিলিরা। স্পোর্টিং উইকেটে শুরুতে ব্যাট করার সম্পূর্ণ ফায়দা তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে টস হারার সঙ্গে সঙ্গে কার্যত ম্যাচও হেরে যায় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।

স্নায়ুর চাপ
একে প্রথম বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল, একশো তিরিশ কোটি দেশবাসীর প্রত্যাশা, তার মধ্যে মেলবোর্নের ৮৬ হাজার দর্শকের গর্জনে যেন ম্যাচে প্রথম থেকেই কিছুটা গুটিয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় মহিলারা। স্পিনার দীপ্তি শর্মাকে প্রথম ওভার বল করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। বোলারের মুখ দেখেই মনে হচ্ছিল, যে তিনি রযেছেন প্রবল চাপে। কার্যক্ষেত্রেও এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। অজি ওপেনার আলিসা হিলিকে প্রথম বলই জুসি ফুলটস দিয়ে ফেলেন দীপ্তি। তুলে চার হাঁকাতে কোনও ভুল করেননি অস্ট্রেলিয়ার মহিলা উইকেটরক্ষক। ওই ওভারেই হিলির সহজ ক্যাচও ফেলে দেন ১৬ বছরের শাফালি বর্মা। দীপ্তির ওভার থেকে ১৪ রান বের করেন অজি ওপেনাররা। ম্যাচ হয়তো সেখানেই অস্ট্রেলিয়ার ঝুলিতে চলে যায়।

জঘন্য ফিল্ডিং
বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার চাপ যে কতটা, তা ভারতের মহিলা ক্রিকেটারদের দেখে বোঝা গিয়েছে। বোলারদের পাশাপাশি ম্যাচ হারের জন্য ভারতীয়দের জঘন্য ফিল্ডিং-কে অবশ্যই দায়ী করা যায়। ম্যাচের প্রথম ওভারেই অজি ওপেনার আলিসা হিলির ক্যাচ ফেলেন শাফালি বর্মা। ফলো-থ্রুতে অজি ওপেনার বেথ মুনির ক্যাচ ফেলেন স্পিনার রাজেশ্বরী গায়েকোয়াড়ও। এই দুই ব্যাটসম্যানই ভারতের সব হিসেব ওলোট-পালোট করে দেন। ৭৫ রান করেন হিলি। ৭৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মুনি। অজি ওপেনারদের মধ্যে ১১৫ রানের পার্টনারশিপও হয়। এছাড়াও ভারতীয় ফিল্ডারদের মন্থর গতির জন্য এক রানকে দুই কিংবা দুই রানকে তিন বানাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের কোনও অসুবিধা হয়নি।

ব্যাটিং বিপর্যয়
টুর্নামেন্টে জুড়ে যে ব্যাটিং ভারতের প্রধান অস্ত্র হিসেবে উঠে আসে, তা ফাইনালে ভোঁতা হয়ে যায়। এই বিশ্বকাপে সর্বাধিক ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটের মালকিন ১৬ বছরের শাফালি বর্মা, ফাইনালের চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হন। মাত্র চার ম্যাচে ১৬১ রান করেও ফাইনালে ক্রিকেট প্রেমীদের হতাশ করেন তিনি। মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান শাফালি। ব্যর্থ হন জেমেইমা রডরিগেজও (০)। অভিজ্ঞ স্মৃতি মান্ধানা (১১) ও হরমনপ্রীত কৌর (৪) তাঁদের অভিজ্ঞতার প্রতি সুবিচার করতে পারলেন কই! অল-রাউন্ডার দীপ্তি শর্মা (৩৩) ও বাংলার রিচা ঘোষ শেষ দিকে কিছুটা চালিয়ে খেলার চেষ্টা করলেও, ম্যাচ জিততে তা যথেষ্ট বলে মনে হয়নি।


Click it and Unblock the Notifications
ধোনিকে কোনও স্পোশাল সুযোগ নয়, আইপিএলে পারফর্ম কর দলে ঢোক! স্পষ্ট বার্তা!


















