
ওপেনার
পৃথ্বী শ-এর অনুপস্থিতিতে প্রথম টেস্টে ওপেন করার দৌড়ে এগিয়ে আছেন মুরলি বিজয় ও কেএল রাহুল। ইংল্যান্ড সফরে খারাপ ফর্মের জন্য বাদ পড়েছিলেন তিনি। তারপর কাউন্টি ক্রিকেটে ভাল ফর্ম তাঁকে টেস্ট স্কোয়াডে ফিরিয়ে এনেছে। প্রথম টেস্টে হঠাত আসা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলে তিনি নিজের জায়গা পুনপ্রতিষ্ঠা করতে চাইবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরু থেকেই খারাপ ফর্ম চলছঠে রাহুলের। মাঝে মধ্যে একেকটি ভাল ইনিংস খেললেও একেবারেই ধারাবাহিকতা দেখআতে পারেনি তিনি। এই টেস্টে ভাল খেলতে না পারলে কিন্তু তাঁর বাদ পড়াটা একরকম নিশ্চিত হয়ে যাবে।

মিডল অর্ডার
মিডল অর্ডারে চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি ও আজিঙ্কা রাহানে একেবারে নিশ্চিত। ভারতের টেস্ট দলের গুরকুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও ২০১৮ সালটা পুজারার মোটেই ভাল যায়নি। মাত্র ১টি শতরান পেয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আগের সফরেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আসন্ন সিরিজে কিন্তু তিনি তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরতে চাইবেন।
বলাই বাহুল্য ভারতীয় দলের ব্যাটিংয়ের প্রধান ভরসা অধিনায়ক কোহলি। ২০১৪-র সফরে তিনি ৪ ম্য়াচে ৬৯২ রান করেছিলেন। এই মুহূর্তে তিনি যেরকম ফর্মে আছেন, তাতে এইবার সেই পারফরম্যান্সকেও ছাপিযে যেতে পারেন তিনি।
অতীতে বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান ছিলেন সহঅধিনায়ক রাহানে। কিন্তু এই বছর হঠাতই তিনি ফর্ম হারিয়েছেন। ফর্মের থেকেও বেশি ধরা পড়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাসের অভাব। কিন্তু নিউজিল্যান্ডে বেসরকারি টেস্টে বা অনুশীলন ম্যাচে পুরনো রাহানেকে দেখা দিয়েছে।
ছয় নম্বরে লড়াইটা রয়েছে হনুমা বিহারী ও রোহিত শর্মার মধ্যে। তবে অনুশীলন ম্যাচে রোহিতের আগে তাঁকেই নামানো হয়েছিল। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তিনি অর্ধশতরানও করেছেন। এছাড়া তিনি কিন্তু মিডিয়াম পেস বলও করতে পারেন। ইংল্যান্ডে তিন উইকেট নিয়েছিলেন। ফলে তিনি খেললে ভারতের হাতে একজন বাড়তি বোলারও থাকবে।

উইকেটরক্ষক ও অলরাউন্ডার
উইকেটের পিছনে তাঁর ফর্ম খারাপ হলেও টেস্ট দলে ব্য়াটিংয়ের জোরেই আপাতত দলে জায়গা পাকা করেছেন দিল্লির উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক টেস্ট সিরিজেই তিনি কেনিংটন ওভালে শতরান করেছিলেন। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও তিনি দুটি ৯০-এর ঘরে রান করেছেন। লোয়ার অর্ডারে যেভাবে দ্রুত গতিতে রান তোবলেন, তা কিন্তু ভারতকে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বড় রানের স্কোর করতে সহায়ক হবে মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে টেস্টে বিশ্বের অন্যতম সেরা অফস্পিনার অশ্বিন। সাম্প্রতিককালে অলরাউন্ডার হিসেবে জাদেজার ফর্ম ভাল থাকলেও অশ্বিন তাঁর স্পিন দক্ষতা ও অজিদের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতার জোরেই প্রথম দলে ঢোকার প্রথম দাবিদার হবেন। পরিস্তিতি অনুযায়ি তিনি কিন্তু কাজ চালানোর মতো ব্য়াটও করতে পারেন।

জোরে বোলার
দুদিকেই সমানভাবে বল সুই করানোর বিরল ক্ষমতা রয়েছে ভুবনেশ্বর কুমারের, যা দলের বাকি বোলারদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে তিনি পিঠের চোটের জন্য খেলতে পারেননি। আসন্ন সিরিজে অজি ব্যাটারদের বিপাকে ফেলতে তাঁণর উপর অনেকটাই নির্ভর করবেন কোহলি।
টেস্টে ভারতের সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলার মহম্মদ শামি। এই বছর ভারতের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রকারী তিনিই। বল পুরনো হয়ে গেলে তাঁর রিভার্স সুইং করার ক্ষমতা কাজে আসবে ভারতের।
গত এক-দেড় বছরে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতি ঘটিয়েছে যিনি, তিনি হলেন জসপ্রিত বুমরা। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছএন তিনি। কিন্তু তাতেই ২৮টি উইকেট নিয়েছেন। দুইবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন। গড় ২৫.৫৭।


Click it and Unblock the Notifications



















