ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া, অ্যাডিলেড টেস্ট: দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স, অজি ইনিংসকে একাই টানলেন হেড

অ্যাডিলেড টেস্টের প্রথম দিনের শেষে পুজারা জানিয়েছিলেন এই উইকেটে অশ্বিন দারুণ কার্যকরী হবেন। বাস্তবেও হল তাই। তবে শুধু অশ্বিন নন, ভারতীয় বোলারদের প্রত্যেকেই দ্বিতীয় দিনে দাপট দেখালেন। শেষ সেশনে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ব্য়াটিংকে টানলেন ট্রাভিস হেড। তাঁর ধৈর্যশীল অপরাজিত ৬১ রানের দৌলতেই দ্বিতীয় দিনে শেষে ভারতের প্রথম ইনিংসের ২৫০ রানের থেকে ৫৯ রানে পিছিয়ে থাকল অস্ট্রেলিয়া।

দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স, অজি ইনিংসকে একাই টানসলেন হেড

অথচ একটা সময় ১২৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। এদিন ভারতের বোলারা একদিকে যেমন রান চেপে রাখলেন, আবার নিয়মিত ব্যবধানে উইকেটও তুললেন। অজিদের রক্ষণাত্বক ব্য়াটিং দেখে সচিন তেন্ডুলকার বলেই দিলেন ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার এমন ব্যাটিং তিনি আগে কখনও দেখেননি। কিন্তু ইংল্যান্ডের পর আবারও টেল এন্ডারদের ফেরাতে না পারার রোগে ভুগল ভারত।

তার আগে আগের দিনের ২৫০ রানেই শেষ হয় ভারতের প্রথম ইনিংস। দিনের প্রথম বলেই হ্য়াজেলউডের বলে উইকেটের পিছনে ধরা পড়েন মহম্মদ শামি।

এরপর ব্য়াট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইশান্ত শর্মার বলে কোনও রান করার আগেই আউট হয়ে যান অ্যারন ফিঞ্চ। ইশান্তের ইনসুইঙ্গারে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন তিনি। বল তাঁর ব্যাটের ভিতরের কানায় লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়।

কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে খোয়াজা ও অভিষেককারী মার্কাস হ্য়ারিস ভাল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। একদিকে ইশান্ত তাঁর ফুল লেন্থ ডেলিভারিতে অস্ট্রেলিয়ার উপর চাপ বজায় রাখলেও অপর প্রান্তে বুমরা কিন্তু সেই চাপ ধরে রাখতে পারেননি। ধীরে হলেও, দুই বাঁহাতির ব্যাটেই রান আসছিল।

এরপরই কোহলি আক্রমণে নিয়ে আসেন অশ্বিনকে। অফস্পিনারকে সামনে পেয়ে আক্রমণ শুরু করেছিলেন হ্যারিস। অশ্বিনকে মাথার উপর দিয়ে একটি ছয়ও হাঁকান তিনি। কিন্তু এই লড়াইতে শেষ হাসিটা হাসেন অশ্বিনই। সিলি পয়েন্টে ধরা পড়ার আগে তিনি ২৬ রান করে যান।

এখান থেকেই শুরু হয়েছিল অশ্বিন-জাদু। দুই সেশন ধরে টানা তিনি ২২ ওভার তিনি বল করেন। দ্বিতীয় সেশনে তিনি তুলে নেন শন মার্শ ও খোয়াজাকে। একেবারেই রান করতে পারছিলেন না মার্শ। চাপ বাড়ছিল তাঁর উপর। শেষ পর্যন্ত ধৈর্য্য হারিয়ে অশ্বিনের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে আউট হন তিনি। বল তাঁর ব্যাটের ভিতরের কানায় লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়। ১৯ বল খেলে ২-এর বেশি করতে পারেননি তিনি।

এরপর পিচ থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে তিনি তুলে নেন উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া খোয়াজাকেও। দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য সহকারে ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত ১২৫ বল খেলে ২৮ রান করে যান তিনি। অশ্বিনের হঠাত লাফিয়ে ওঠা বল তাঁর গ্লাভস-এ লেগে যায় উইকেটের পিছনে পন্থের হাতে। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও, রিভিউ আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত জানান। এই সময় অস্ট্রেলিয়ার ৮৭ রানে ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিল।

এখান থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে কিছুটা থিতু করেন হ্যান্ডসকম্ব ও ট্রাভিস হেড। চায়ের বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৪ উইকেটে ১১৭। কিন্তু হ্যান্ডসকম্বও হ্যারিস খোয়াজার মতোই ভাল শুরুর ফায়দা নিতে পারেননি। চায়ের পর কোহলি আক্রমণে ফিরিয়েছিলেন বুমরা-ইশান্ত জুটিকে।

প্রথম স্পেলে বুমরা কিছু করে দেখাতে না পারলেও তৃতীয় সেশনর শুরু থেকেই তিনি চাপ তৈরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয় ব্য়াটসম্য়ানদের উপর। প্রথমে তাঁর একটি বল লাগে হ্য়ান্ডসকম্বের প্যাডে। সে যাত্রা বেঁচে গেলেও এরপরই অফ স্টাম্পের বাইরের একটি লেন্থ বলে খোঁচা দিয়ে ৩৪ রানে পন্থের হাতে ধরা পড়েন হ্য়ান্ডসকম্ব।

পরের আঘাতটি হানেন ইশান্ত। প্রথম থেকেই তাঁর ফুল লেন্থ ডেলিভারি খেলতে সমস্যায় পড়ছিলেন অস্ট্রেলিয় ব্য়াটসম্যানরা। সেরকমই একটি বলে অজি অধিনায়ক টিম পেইনকে তুলে নেন তিনি। বল পেইনের ব্য়াটের কানায় লেগে জমা পড়ে পন্থের গ্লাভসে। ৫-এর বেশি করতে পারেননি তিনি।

এখান থেকেই ভারতের হতাশা বাড়ান ট্রাভিস হেড ও প্য়াট কামিন্স। একদিক ধরে রেখেছিলেন পেইন, আর অন্যদিকে একের পর এক দুর্দান্ত শট নেন হেড। বুমরার বলে এলবিডব্লু হওয়ার আগে কামিন্স ৪৭ বলে ১০ করে যান। এরপর মিচেল স্টার্কও ভাল ব্য়াটিং-এর ইঙ্গিত দিয়েছেন। দিনের শেষে হেডের সঙ্গে ৮ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি।

প্রথম দিনের পর দ্বিতীয় দিনেও দেখা গেল এই উইকেটে প্রথম দুই সেশনের পর ব্যাট করা সহজ হয়ে যাচ্ছে। কাজেই তৃতীয় দিন প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস বেশিক্ষণ স্থায়ী হওয়ার কথা নয়। এখনও ম্যাচ পঞ্চাশ-পঞ্চাশ অবস্থায় রয়েছে বলা যায়।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Story first published: Friday, December 7, 2018, 13:07 [IST]
    Other articles published on Dec 7, 2018
    POLLS

    পান মাইখেল-এর ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
    mykhel Bengali

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Mykhel sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Mykhel website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more