অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত, পার্থ টেস্ট: হারের মুখে ভারত! অস্ট্রেলিয়ার চাই মাত্র ৫টি উইকেট

পার্থ টেস্টে তর্কাতীতভাবে চালকের আসনে বসল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ২৪৩ রানে শেষ হয়েছিল অজি ইনিংস। ভারতের সামনে পার্থ টেস্ট জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮৭। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে পার্থ-এ ব্যর্থ হলেন ভারতের সব ব্য়াটসম্য়ানই। দিনের শেষে ভারতের স্কোর ১১২/৫। শেষদিন জিততে গেলে ভারতকে টপকাতে হবে ১৭৫ রানের পাহাড়। ক্রিজে অপরাজিত আছেন হলুমা বিহারী (২০) ও ঋষভ পন্থ (৯)। অপরপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার চাই মাত্র ৫টি উইকেট।

অস্ট্রেলিয়া বনাম ভারত, পার্থ টেস্ট: হারের মুখে ভারত!

এদিন অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া করতে নেমে একেবারে ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। ইনিংসের চতুর্থ বলেই মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হন লোকেশ রাহুল। এদিন তিনি খাতাই খুলতে পারেননি। ছাড়বেন কি ছাড়বেন দোনোমোনো করে বলটিকে তিনি ব্য়াচের ভিতরের কানায় লাগিয়ে উইকেটে টেনে আনেন। তাঁর কিন্তু আর একটিও সুযোগ প্রাপ্য নয়।

এর সামান্য পরেই ব্যাজেলউডের একটি হঠাত লাফিয়ে ওঠা বল সামলাতে না পেরে উইকেটের পিছনে ক্য়াচ দিয়ে মাত্র ৪ রান করেই ফিরে যান অ্যাডিলেড টেস্টের নায়ক চেতেশ্বর পুজারা। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৩/২।

এই অবস্থায় ক্রিজে এসেছিলেন কোহলি। সঙ্গে ছিলেন ওপেনার মুরলি বিজয়। সামান্য পরেই চা বিরতি হয়। কিন্তু কোহলিকে এদিন চা বিরতির কুড়ি মিনিট নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা যায়। কিন্তু তাঁর এই নিষ্ঠার খুব একটা দাম সোমবারের পার্থ তাঁকে দেয়নি।

ভারতের প্রাথমিক কাঁপুনি কাটিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংসকে থিতু করতে শুরু করেছিলেন বিরাট-বিজয় জুটি। তখনই ভারতীয় শিবিরে সবচেয়ে বড় আঘাতটি হানেন নাথান লিয়ন।

কোহলির জন্য অফস্টাম্পের বাইরে একটি ফ্লাইটেড বেলিভারি রেখেছিলেন তিনি। বলটি অফস্পিন হবে আন্দাজ করে স্পিনের সঙ্গে খেলার জন্য ব্য়াট চালিয়েছিলেন বিরাট। কিন্তু বলটি একটুও না ঘুরে বিরাটের ব্য়াটের কানায় লেগে যায় স্লিপে উসমান খোয়াজার হাতে। ১৭ রানেই প্যাভিিয়নে ফিরতে হয় চুড়ান্ত হতাশ ভারত অধিনায়ককে।

এর দুই ওভার পরই ফের আঘাত হানেন লিয়ন। তাঁর বলে দারুণ কিছু বৈচিত্র নেইষ কিন্তু উইকেটের বাউন্স ও রাফকে ব্যবহার করে চিরাচরিত অফস্পিন দিয়েই কিভাবে ভারতের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত করা যায় তা তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন।

অফস্টাম্পের বাইরে বিজয়ের জন্যও ফাঁদ পেতেছিলেন তিনি। বোলারদের ফুটমার্কে পিচে তৈরি হওয়া ক্ষততে বলটি পড়ায় অনেকটা ঘোরে। ব্যাট ও প্য়াডের মধ্যে বিশাল ফাঁক রেখে কভার ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু সেই ফাঁক দিয়ে বল গলে ভেঙে দেয় তাঁর উইকেট। তার আগে ২০ রান করে যান তিনি। ৫৫ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় ভারতের।

এরপর ভারতের পক্ষে আরও একটি জুটি গড়ে তুলেছিলেন আজিঙ্কা রাহানে ও হনুমা বিহারী। বস্তুত এদিন ভারতীয় ব্য়াটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ ছিলেন রাহানে। স্টার্কের একটি শর্ট বলে ডিপ থার্ডম্যানের উপর দিয়ে তিনি একটি বিশাল ছয়ও মেরেছিলেন।

রাহানে-বিহারী জুটি ভারতকে প্রায় ১০০ রানের গন্ডি পার করিয়ে দিয়েছিলেন। দুজনের ব্যাটেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই সময়েই ফের সেট হয়ে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসার পুরনো রোগে ভুগলেন রাহানে।

অফস্টাম্পের বাইরে হ্যাজেলউডের গুড লেন্থ ডেলিভারিটিতে একেবারেই নির্বিষ ছিল। সজোরে ব্যাট চালিয়েছিলেন রাহানে। টাইমও করেছিলেন একেবারে ব্য়াটের মাঝখান দিয়ে। কিন্তু ফিল্ডিং-এর ফাঁক খুঁজে নিতে ব্যর্থ হন। বল সোজা পয়েন্টে দাঁড়ানো ট্রাভিস হেডের হাতে জমা হয়। ৩০ রানেই থেমে যায় তাঁর ইনিংস।

দিনের খেলা শেষ হওয়ার মাত্র ৬ ওভার বাকি থাকতে আউট হন রাহানে। তাঁকে কিন্তু নিজের উইকেটের গুরুত্ব বুঝতে হবে। দিনের শেষে তিনি অপরাজিত থাকলে ভারত বর্তচমান অবস্থা থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকত।

আশার কথা ক্রিজে অপরাজিত থাকা হনুমা বিহারী এখনও অবধি বেশ মজবুত ব্য়াটিং করেছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দাঁড়ানোর মতো নাম কিন্তু ভারতের ব্য়াটিং লাইনআপে আর নেই। পন্থ দুর্দান্ত মেরে খেলতে পারেন। কিন্তু পার্থের কঠিন উইকেটে তিনি কতক্ষণ টিকে থাকতে পারেন তার বড় পরীক্ষা হবে শেষ দিনে।

আর তারপরেই শুরু ব্য়াটিং লেজ। যারা টিম ম্য়ানেজমেন্টের প্রত্যাসা মতো ২৫টি রান তুলতেই ব্যর্থ হয়েছেন। কাজেই খাতায় কলমে জিততে গেলে অস্ট্রেলিয়াকে ৫টি উইকেট তুলতে হবে ঠিকই, কিন্তু আদতে তাদের দরকার শুধু হনুমা বিহারীর উইকেটটি। তারপর জয়ের স্রেফ সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

দিনের প্রথম সেশনে হতাশ করেছিলেন ভারতীয় বোলাররাও। মধ্যাহ্নভোজের আগে একটিও অজি উইকেট পড়েনি। তবে তারা অত্ রক্ষণাত্মক ব্য়াটিং করেছে।

বিরতির পর অবশ্য দারুণভাবে ফিরে আসেন ভারতের জোরে বোলাররা, বিশেষ করে মহম্মদ শামি। অজি অধিনায়ক টিম পেইন (৩৭), -এর। অ্যারন ফিঞ্চ (২৫), উসমান খোয়াজা (৭২), নাথান লিয়ন (৫) - ৪ জনেই তাঁর শিকার। তৃতীয় দিনের ২ উইকেট নিয়ে এই ইনিংসে শামি ৫৬ রানে ৬ উইকেট নেন। এটাই তাঁর এক ইনিংসে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।

প্য়াট কামিন্স (১) ও মিচেল স্টার্ক (১৪)-এর বাকি দুটি উইকেট তুলে নেন বুমরা। তবে এদিনও ভারতের হতাশা বাড়িয়ে শেষ উইকেটে স্টার্ক ও হ্য়াজেলউড (১৭*) ৩৬ রান তোলেন। যার দৌলতেই অস্ট্রেলিয়ার লিড প্রায় ৩০০ রানের কাছে পৌঁছে যায়।

For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    Story first published: Monday, December 17, 2018, 16:01 [IST]
    Other articles published on Dec 17, 2018
    POLLS

    পান মাইখেল-এর ব্রেকিং নিউজ অ্যালার্ট
    mykhel Bengali

    Notification Settings X
    Time Settings
    Done
    Clear Notification X
    Do you want to clear all the notifications from your inbox?
    Settings X
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Mykhel sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Mykhel website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more