জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সন্ত্রাসবাদী হামলার জের পড়ল আইসিসি বিশ্বকাপেও। এই ঘটনার পর আসন্ন ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত-পাক ম্যাচ খেলতে নাও রাজি হতে পারে ভারতীয় বোর্ড। অন্তত ঘটনাক্রম সেই দিকেই এগোচ্ছে। রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ম্য়াচটি না খেলার জন্য বিসিসিআইকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর কাছে সিসিআই-এর সেক্রেটারি সুরেশ বাফনা জানিয়েছেন, সিসিআই একটি ক্রীড়া সংস্থা। তাই যে কোনও সময়ে খেলা হওয়ার পক্ষেই থাকেন তাঁরা। কিন্তু খেলাধূলার আগেও থাকে দেশের স্বার্থ। আর সেই কথা মাথায় রেখেই সিসিআই মনে করছে এই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনওরকম ক্রিকেটিয় সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়।
ভারতীয় ক্রিকেটে সিসিআই অত্যন্ত বড় নাম। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় বিসিসিআই। এমনিতেই দীর্ঘ কয়েক বছর পাকিস্তানের সঙ্গে একমাত্র আইসিসি আয়োজিত বহুদেশীয় টুর্নামেন্ট ছাড়া ক্রিকেট খেলে না বিসিসিআই। আগামী ১৬ জুন বিশ্বকাপের ম্যাচে ইংল্যান্ডের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ভারত ও পাকিস্তান দুই দল মুখোমুখি হবে। সিসিআই-এর পক্ষ থেকে এমন অনুরোধের পর বোর্ড কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার।
পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত পাক প্রধানমন্ত্রী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইমরান খানের মুখ না খোলা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাফনা। তাঁর মতে ইমরানের এই বিষয়ে খোলসা করে বিবৃতি দেওয়া উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন যদি এই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের কোনও হাত নাই থাকে, তাহলে সেই কথা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন না কেন ইমরান? এর থেকেই স্পষ্ট পাকিস্তান গায়ে কলঙ্কের দাগ রয়েছে।
শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামার ঘটনার প্রতিবাদে সিসিআই-এর রেস্তোরাঁয় ইমরান খানের প্রতিকৃতি ঢেকে দেওয়া হয় সাদা কাপড়ে। সিসিআই জানিয়েছিল, ইমরান কিংবদন্তি ক্রিকেটার হতে পারেন, কিন্তু এই ঘটনার পর সিসিআইতে থাকার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন। সিসিআই-এর প্রেসিডেন্ড প্রেমল উদানি জানান, তাঁদের মতো করে পুলওয়ামায় ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতেই সিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ছবিটি আপাতত ঢেকে রাখা হলেও চিরতরে তা সিসিআই-এর দেওয়াল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও ঠিক হয়নি।
ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে ক্রিকেট জীবনে দুইবার খেলেছিলেন ইমরান। ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তান প্রদর্শনী ম্য়াচে খেলেন। এরপর ১৯৮৯ সালে নেহরু কাপে এই মাঠে ইমরানের নেতৃত্বেই পাকিস্তান দল ওয়েস্টইন্ডিজকে পরাজিত করেছিল।