ওয়াশিংটন সুন্দরের এটাই প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। আর দীনেশ কার্তিক প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছিলেন দীর্ঘদিন আগে। কিন্তু কেএল রাহুলের ভারতীয় দল ও ভারত এ দল - দুই অভিষেকই হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই। তাই মাঠের বাইরের অস্ট্রেলিয়াকেও তিনি চেনেন প্রায় হাতের তালুর মতো। তাঁর হাত ধরেই ব্রিসবেনে এক ঐতিহ্যশালী রেস্তোঁরায় খেতে গিয়েছিলেন প্রথম দুজন। টি২০ সিরিজের শেষ এই তিনজনের সেই হাল্কা মেজাজে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের একটি ভিডিও প্রকাশ করল ভারতীয় বোর্ড।
ব্রিসবেনে একটি পরিতক্ত চার্চকে রূপান্তরিত করা হয়েছে রেস্তোরায়। সেখানকার প্যানকেক খুবই বিখ্যাত। রাহুলকে প্রথম কে এই রেস্তোঁরার সন্ধান দিয়েছিলেন জানা নেই। কিন্তু, বোর্জের প্রকাশিত ভিডিও-তে তিনি জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় বিশেষত ব্রিসবেনে এলে এই রেস্তোরাঁয় একবার পা রাখেনই। আর সেখানেই দলের সিনিয়র ও জুনিয়র সতীর্থকে নিয়ে প্রাতরাশ সারতে গিয়েছিলেন তিনি।
তাঁরা জানিয়েছেন প্যানকেক অস্বাস্থ্যকর না হলেও তার সঙ্গে যে আইসক্রিম দিয়ে পরিবেশন করা হয়, তা ক্রিকেটারদের খাদ্য-তালিকায় একেবারে নিষিদ্ধ। তবে নিষেধের বেড়াজাল ভেঙে একটু বাধনছাড়া নাহলে জীবনই বা চলবে কীকের? তাই একদিনের নিয়মভঙ্গ চলতেই পারে।
রেস্তোরাঁটি রাহুলের পূর্বপরিচিত হলেও দীনেশ ও সুন্দর প্রথমবার রেস্তোরাঁটিতে পা দিয়ে নিজেদের মুগ্ধতা গোপন করতে পারেননি। খাওয়ারের স্বাদ তো পরের বিষয়, তার আগে রেস্তোরাঁতির পরিবেশই তাঁদের মন কেড়ে নিয়েছে। পুরনো চার্চ হওয়াতে স্বাভাবিক ভাবেই অনেক ছাদ অনেক উঁচুতে। দেওয়ালে এখনও চার্চের স্মৃতি রয়ে গিয়েছে। আর এই পরিবেশেই প্যানকেক সহ জমে ওঠে তিন অসমবয়সী ক্রিকেটারের আড্ডা।
SPECIAL: What's in a pancake? @klrahul11, @DineshKarthik & @Sundarwashi5 bond over breakfast
— BCCI (@BCCI) November 26, 2018
Some lip smacking pancakes, tales from Australia and the perfect "cheat meal" - throwback to the sumptuous time the lads had in Brisbane - by @28anand
📹📹https://t.co/G7OK7HSnhI pic.twitter.com/z5EE7r8CmN
রাহুল জানান অস্ট্রেলিয়ার খেলতে তিনি খুবই পছন্দ করেন। কারণ এই দেশে মাঠের মধ্যে যেমন ক্রিকেটাররা অত্যন্ত প্রতিযোগী মানসিকতার, তেমন মাঠের বাইরেও দর্শকরা প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন। তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মেলবোর্নে। সেখানকার বিশাল মাঠে স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে তিনি নাকি তখনকার অধিনায়ক ধোনিকে দেখতেই পাচ্ছিলেন না। আর তার উপর পিছনে চলছিল দর্শকদের ক্রমাগত বিদ্রুপ।
দর্শকদের এই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততাই রাহুলের অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে ভাল লাগার অন্যতম কারণ। জীবনের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। তবে তাঁদের আড্ডা সবচেয়ে জমে ওঠে দীনেশ কার্তিকের কথায়।
তিনি কতদিন আগে প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরে এসেছিলেন, জানাতে গিয়ে কার্তিক বলেন, তখন সবে অস্ট্রেলিয়া দেশটা খুঁজে পাওযা গিয়েছিল। তিনি এসেই নাকি এই দেশের শহর পরিকল্পনা করেছিলেন। মাঠের বাইরে এভাবেই ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা বাড়িয়ে নিচ্ছেন, আর হাল্কা করে নিচ্ছেন মাঠের মধ্যের চাপটা। এই দৃশ্য অধিনায়ক কোহলিকে নিশ্চই আনন্দ দেবে। তবে 'ফিটনেস ফ্রিক' কোহলি তাঁদের প্যানকেক খাওয়াকে কতটা অনুমোদন করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।