
ভারতীয় ওপেনারদের ব্যর্থতা
ভারতীয় মিডল অর্ডারে এখনও সমস্য়া রয়েছে। তার উপর বিরাট কোহলিও ছিলেন না। কাজেই এদিন ভারতীয় ব্যাটিং-কে টানার গুরুদায়িত্বটা ছিল ওপেনারদের হাতেই। বোল্ডে এদিন প্রথম বল থেকেই তাঁদেরকে দম নেওয়ার সামান্য জায়গাটুকুও দেননি। প্রথম বল থেকে সুইং-এর কড়া পরীক্ষা ফেলেছিলেন শিখর-রোহিতকে। দুজনেই সেই পরীক্ষা ডাহা ফেল করেন। কোহলির অনুপস্থিতিতে তাদের আরও বেশি সাবধানী খেলতে হত।

পতন রুখতে ব্য়র্থ মিডল অর্ডার
ওপেনার দ্বয়ের পর অভিষেককারী তরুণ শুভমানও শিকার হন বোল্টের ঝলকের। কিন্তু তাঁর মতো তরুণকে গাইড করে নিয়ে যাঁরা যেতে পারতেন সেই ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ব্য়াটসম্য়ান - রায়ডু, কার্তিক ও কেদার যাদব তিনজনেই এদিন চুড়ান্ত ব্যর্থ হন। ১১তম ওভারে গ্র্যান্ডহোমির বলে মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে প্যাভিলিয়ের রাস্তা ধরেন রায়ডু ও কার্তিক। কেউ কোনও রান পাননি। আর কেদার কোনও মতে ১টি রান করে বোল্টকে চতুর্থ উইকেট দিয়ে যান।

মিডল অর্ডারে ধোনির অভাব
এদিনও প্রথম একাদশে ছিলেন না মহেন্দ্র সিং ধোনি। তৃতীয় ম্যাচে তাঁর অভাব সেভাবে অনুভূত না হলেও চতুর্থ ম্যাচে তাঁর না থাকাটা বড় হয়ে দাঁড়ায়। একসময় দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে সেরা বাজি ছিলেন ধোনি। ইদানিং তিনি খেলা বদলে মিডল অর্ডারে শ্রীযুক্ত নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছেন। তিনি থাকলে অন্তত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তো না মিডল অর্ডার।

প্রধান তফাত বোল্ট
কিছু কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন শুধু মাত্র প্রতিপক্ষের দক্ষতার তারিফ করা ছাড়া কিছু করার থাকে না। হ্যামিল্টনে বৃহস্পতিবার ভারতীয় ক্রিকেটারদের জ্য ছিল এমনই একটা দিন। পরাজয়ের যত কারণই বের করা হোক না কেন, দুই দলের মধ্যে এদিন প্রধাণ ফারাকটা গড়ে দিয়েছিলেন বোল্টই। তাঁর ক্রিকেটিয় দক্ষতার কাছেই গোটা ভারতীয় দল আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। শিখর-রোহিত-শুভমানকে তুলে নিয়ে প্রথমে তিনি ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মাথা ভেঙে দেন। তারপর কেদার ও হার্দিক-কে ফিরিয়ে ভারতের শেষ প্রতিষ্টিত ব্য়াটিং জুটিকে তুলে নিয়ে গোড়াও মুড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দুর্দান্ত সুইং বোলিং-এর কোনও জবাবই ছিল না ভারতীয়দের কাছে।

ফের সুইং-এ আত্মসমর্পন
নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইনআপ রয়েছে ভারতের হাতে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ভাল মানের সুইং বোলিং-এর সামনে তাদের দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠছে। ইংল্যান্ডে সুইং সামলাতে না পেরেই সিরিজ খোয়াতে হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচেও রিচার্ডসন ও বেহেরনডর্ফ-এর সুইং সামলাতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং। এরপর হ্য়ামিল্টনেও একই ঘটনা ঘটল। এবারের বিশ্বকাপের আসর বসছে ইংল্যান্ডে। সেখানকার মাঠে কিন্তু সুইং বোলারাই সুবিধা পান। কাজেই এই বিষয়টা কিন্তু চিন্তায় রাখবে টিম ম্য়ানেজমেমন্টকে।


Click it and Unblock the Notifications




















