বিরাট কোহলিকে ২০১৯ সালের পর শতরান পেতে অপেক্ষা করতে হয় গত বছরের এশিয়া কাপ পর্যন্ত। টি ২০ আন্তর্জাতিকের পর একদিনের আন্তর্জাতিক। চলতি বছর কেটেছে টেস্ট শতরানের দীর্ঘ খরা। আপাতত বিরাট কোহলির আন্তর্জাতিক শতরানের সংখ্যা ৭৫। তিনি সচিন তেন্ডুলকরের একশোটি শতরানের রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কিছুদিন সরে থাকার পর মাঠে নেমেই ধীরে ধীরে চেনা ছন্দে ফিরেছেন কিং কোহলি। তাঁর ভক্তরা আশায়, এভাবে খেলতে থাকলে সচিনকে টপকে যেতে পারবেন বিরাট। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী অবশ্য মনে করেন, সেই কাজটা সহজ হবে না বিরাটের পক্ষে। বিরাটের একদিনের আন্তর্জাতিকে শতরান রয়েছে ৪৬টি, সচিনের ৪৯টি। এই বিশ্বরেকর্ডটি দখলে নিতে বিরাটকে বিশেষ বেগ পেতে হবে না। তবে ফারাক গড়ছে টেস্ট শতরানের সংখ্যা।
সচিন তেন্ডুলকর ২০০টি টেস্টে ৫১টি শতরান করেছেন। সেখানে বিরাট ১০৮টি টেস্ট খেলে ২৮টি শতরান করেছেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকের পাশাপাশি বিরাটের টি ২০ আন্তর্জাতিকেও শতরান রয়েছে। টেস্টে যে ২৩টি শতরানের ফারাক সেটিই সচিনের রেকর্ড ভাঙার ক্ষেত্রে বিরাটের কাজটা কঠিন করে দিচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। যদিও সম্প্রতি হরভজন সিং বলেছিলেন, বিরাট অবলীলায় ভেঙে দেবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সচিনের সর্বাধিক শতরানের বিশ্বরেকর্ড।
চলতি বছর বিশ্বকাপ রয়েছে। এই বছরই কোহলি একদিনের আন্তর্জাতিকে সচিনের সর্বাধিক শতরানের রেকর্ড টপকে যেতেই পারেন। বিরাট সেই বিশ্বকাপের পর তিনটি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন কিনা তা নিয়েও চর্চা চলছে। রবি শাস্ত্রী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, বিরাট কোহলি যা ফিটনেস তাতে এখনও ৫-৬ বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। অনেক ক্রিকেট অবশিষ্ট রয়েছে। কিন্তু এটা মাথায় রাখতে হবে মাত্র একজন ক্রিকেটারই ১০০টি শতরান করেছেন। বিরাট সেটা টপকে যাবেন, এটা বলা বড় ব্যাপার।
শাস্ত্রীর কথায়, বিরাট কোহলির মতো ক্রিকেটার যখন শতরান পান, তখন পরের শতরানগুলি আসতে খুব বেশি সময় লাগে না। ১৫টি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে শতরান আসতেই পারে। কিন্তু ১০০টি শতরান করা কম কথা নয়। সে কারণে এতদিনে মাত্র একজনই তা পেরেছেন। কোহলি যদি সেটা করতে পারেন নিশ্চিতভাবেই তা বিরাট ব্যাপার হবে। এই পরিস্থিতিতে বিরাট আদৌ সচিনের সর্বাধিক আন্তর্জাতিক শতরানের বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।