
ভাগ্য প্রসন্ন
কথায় বলে খেলায় যারা দুঃসাহসী হয়, তাদের প্রতি ভাগ্য দেবী প্রসন্ন হন। কথাটা শনিবারের ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রেও খাটে। প্রথমত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অন্তত ১৫ মিনিট হঠাত খেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। ওই সময় গোকুলাম আরও গোল করতে পারত। কোচ মেনেন্দেজ বলেছেন, কেন এরকমটা হল, তা পর্যালোচনা করা হবে। এছাডা় রেফারির আন্তত দুটি সিদ্ধান্তও এই দিন ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে গিয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান সাবাহকে কিন্তু বক্সের মধ্য়েই ফাউল করেছিলেন লাল হলুদের গোলরক্ষক। তা থেকে পেনাল্টি পেতে পারত গোকুলাম। এছাড়া ফেলিপে কাস্ত্রোর কড়া ট্যাকলে মাতা গরম করে রালতে তাঁকে মাথা দিয়ে ঢুসো মেরেছিলেন, তাতে লালকার্ড দেখতে পারতেন তিনি। এক্ষেত্রেও রেফারির সিদ্ধান্ত ইস্টবেঙ্গলের পক্ষেই যায়।

শুরুতেই দুই গোল
এবারের আই লিগে প্রথম দুই ম্য়াচে জয় দিয়ে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। দউই ম্যাচেই তারা শুরুতেই গোল পেয়েছিল। গোকুলামের বিরুদ্ধে ম্য়াচেও প্রথম ১৫ মিনিটে গোল পেয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের বাকি সময়টা গোকুলামের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। যার ফলে সেই সময় নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পারেনি কেরলের দলটি। তবে গোলদুটির ক্ষেত্রে গোকুলাম রক্ষণভাগেরও ভুল ছিল।

দুরন্ত জাস্টিন
সুনীল ছেত্রী ছাড়া ভারতের জাতীয় দলের আক্রমণভাগের কেউ এই মুহূর্তে ফর্মে নেই। এই অবস্থায় পরের জাতীয় শিবিরে জবি জাস্টিনকে ডাকা উচিত জাতীয় কোচ স্টিভেন কনস্টানটাইনের। অন্তত শনিবার তিনি যা খেলেছেন, তার পরে জাতীয় দলে তাঁকে না ডাকলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হবে। আই এম বিজয়ন, রামন বিজয়ন, আনচেরিদের পথেই এগোচ্ছেন জাস্টিন। প্রতি ম্যাচেই তাঁর খেলার উন্নতি ঘটছে। আইলিগে এই মুহুর্তে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় একমাত্র ভারতীয় তিনিই। শনিবার আরও একবার দলের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিলেন জবি জাস্টিন।

তিনটি সাহসী পরিবর্তন
শনিবার জাস্টিন ছাড়াও ইস্টবেঙ্গলের বাকি দলের খেলাতেও কিন্তু দারুণ উন্নতি দেখা গিয়েছে। আর এর পিছনে রয়েছে প্রথম এগারোয় কোচ মেনেন্দেজের তিনটি সাহসী পরিবর্তন। বিশ্বকাপার জনি অ্যাকোস্টা গত দুই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলেন। এদিন তাঁর বদলে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে খেলেন সালাম রঞ্জন সিং। বোরহা কিছু ভুল করলেও সালাম ছিলেন একেবারে নিখুঁত। এছাড়া লঙভার পরিবর্তে রালতের অন্তর্ভুক্তিও দলের খেলায় উন্নতি ঘটিয়েছে।

দর্শক সমর্থন
পর পর তিন ম্যাচে হারের পরও লাল-হলুদ জনতা আস্থা হারায়নি দলের উপর, কোচ মেনেন্দেজের উপর। ম্যাচের আগে এই সমর্থকরাই বেশি ভয়ের বলে জানিয়েছিলেন গোকুলাম কোচ বিনো জর্জ। শনিবারও মাঠে যথেষ্ট সংখ্য়ায় দেখা গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের। কার্যক্ষেত্রে দলের প্রতি সমর্থকদের এই অকুন্ঠ সমর্থনও বাড়তি তাগিদ তৈরি করে দিয়েছিল সালাম, জাস্টিনদের মনে।


Click it and Unblock the Notifications



















