
আক্রমণভাগের ভেদশক্তি উধাও
মেনেন্দেজ দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ঘরের মাঠে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম দুই ম্যাচে নিখুঁত ফুটবল খলায় লাল-হলুদ জনতার প্রত্যাশাও ছিল আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু এদিনের ফুটবলে সমর্থকদের হতাশই করলেন এস্কেদারা। দুই শীর্ষ স্থানীয় দলের মধ্যে তীব্র লড়াই হলেও ইস্টবেঙ্গের অ্যাটাকিং থার্ডে আগের দুই ম্যাচে যে ভেদ শক্তি দেখা গিয়েছিল, এদিন যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তা হঠাত করেই উধাও হয়ে যায়। নিচ থেকে আক্রমণ তুলে এনেও বারবার এই জায়গাতেই আটকে গিয়েছে মশাল-বাহিনী। এই রোগেই কিন্তু আগের সব আই লিগ মরসুমে ভুগেছে কলকাতার দলটি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই গ্যালারি ফাঁকা হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত নামলেন মানজি
লাজং ম্যাচের জয়ী একাদশে এদিন দুটি পরিবর্তন করেছিলেন স্প্যানিশ কোচ মেনেন্দেজ। লালরামচুলোভার বদলে খেলান সামাদকে, আর ভ্য়ানলালরেমডিকার বদলে প্রথম দলে ফিরে আসেন ইয়ামি লঙভা। অপরদিকে শেষ পর্যন্ত চেন্নাইয়ের দলটির হয়ে এদিন প্রথম থেকেই মাঠে নেমেছিলেন তাদের তারকা স্ট্রাইকার, আই লিগে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা পেদ্রো মানজি।

স্যান্ড্রোর চোখ-ধাঁধানো ফ্রিকিক
প্রথম কুড়ি মিনিট কিন্তু দুই দলের আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে বেশ জমে উঠেছিল খেলা। কিন্তু ক্রমেই লাল-হলুদ ফুটবলাররা ছোটো ছোটো ভুল করা শুরু করেন। রালতের একটি ব্য়াক পাস তেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল কমলা-বাহিনী। কিন্তু দিনটা আজ মানজির ছিল না। তাই ফাঁকা গোলেও তিনি বল ঠেলতে ব্যর্থ হন।
এরপর থেকেই চাপ বাড়িয়েছিল চেন্নাইয়ের দলটি। এর ফল আসে প্রথমার্ধের একেবারে শেষে। গোলপোস্ট থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ফ্রিকিক পেয়েছিল চেন্নাই সিটি। শট নেন তাদের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জুটির অন্যতম স্যান্ড্রো। তাঁর বাঁ-পায়ের শট রক্ষণের দেওয়ালের উপর দিয়ে গিয়ে পোস্টের কোনা দিয়ে ঢুকে জালে জড়িয়ে যায়। দাগারের কিছু করার ছিল না।

এস্কেদার শোধ
বিরতিতে ফল ছিল ১-০। কিন্তু বিরতির পর ম্য়াচে সমতা ফেরানোর জন্য লাল-হলুদের খেলায় ঝাঁঝ ফিরে এসেছিল। এনরিকে এস্কেদার সৌজন্যে চেন্নাই-এর লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বিরতির পর পরিবর্ত হিসেবে মাঠে আসা সুরাবদ্দিন মল্লিক আড়াআড়ি পাস বাড়িয়েছিলেন জনি অ্যাকোস্টার জন্য। কোস্টা রিকার বিশ্বকাপার বলটি ফ্লিক করে দেন এস্কেদাকে। গোল করতে ভুল করেননি তিনি।

ফের হারিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল
এরপরই আরও তেড়েফুড়ে ওঠার বদলে ক্রমশঃ ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বস্তুত, এই সময় খেলাই খুব বাজে হয়েছে। তারমধ্যেও .যেটুকু যা আক্রমণ দেখা গিয়েছে তা চেন্নাইয়ের তরফ থেকেই এসেছে। ম্য়াচের ৮২ মিনিটের মাথায় গিয়ে গোল পায় তারা। সেখান থেকে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে আর সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
নিচ থেকে উঠে আসা প্রভিত্তো রাজুর উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়েছিলেন অজিতকুমার কামরাজ। প্রভিত্তোকে আটকাতে গোল ছেড়ে এগিয়ে আসেন দাগার। কিন্তু প্রভিত্তোকে বাধা দেওয়া তাঁর বিধিসম্মত হয়নি। ফলে পেনাল্টি পায় চেন্নাই। প্রায় ফাঁকা গ্যালারির সামনে গোল করে ম্যাচের ভবিষ্যত নির্ধারণ করে দেন চেন্নাই অধিনায়ক।


Click it and Unblock the Notifications



















