
উভে হন - জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার কোচ
গেমসের নবম দিনে ৮৮.০৬ মিটার দূরে জ্যাবেলিন ছুঁড়ে নীরজ জাতীয় রেকর্ড ভেঙ্গে এবং তাঁর ব্যক্তিগত সেরা রেকর্ড গড়ে সোনা জেতেন। তাঁর এই সাফল্যের পিছনে জার্মান কোচ হনের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। হন নিজে এই ক্রিড়ার কিংবদন্তি। ১০০ মিটার বা তার বেশি দূরে জ্যাভেলিন নিক্ষেপ করার রেকর্ড আছে একমাত্র তাঁরই। বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ১০৪.৮০ মিটার ছুঁড়ে। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি পেশাদার কোচিং করাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি ভারতের প্রধান জাতীয় জ্যাভলিন কোচ।

নিপন দাস - স্প্রিন্টার হিমা দাসের কোচ
হিমা এশিয়াডে তিনটি পদক জিতেছেন - মহিলাদের ৪০০ মিটারে রুপো, ৪x৪০০ মিটার রিলেতে রুপো এবং ৪x৪০০ মিটারে সোনা। গত জুলাইতে ফিনল্যান্ডে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটারে হিমা স্বর্ণপদক জেতার পরে প্রথম শোনা গিয়েছিল অ্যাথলেটিক্স কোচ নিপন দাস-এর নাম। নিপন রাজ্য়ের ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দপ্তরের কর্মী। ২০১৬ সালের শেষদিকে আয়োজিত আন্তঃজেলা মিটে তিনি প্রথম হিমাকে দেখেন। তিনিই হিমাকে নওগাঁ জেলার গ্রাম থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরের শহর গুয়াহাটিতে নিয়ে আসেন হিমাকে। তাঁর মধ্যে বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেন যে অ্যাথলেটিক্সে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। তারই ফসল আজ পাচ্ছে ভারত।

অমরিশ কুমার - মনজিত সিংয়ের কোচ
পুরুষের ৮০০ মিটার ফাইনালে ১ মিনিট ৪৬.১৫ সেকেন্ড সময় করে সোনা জিতে এশিয়ান গেমসে হইচই ফেলে গিয়েছেন মনজিত সিং। পুরুষের ৮০০ মিটারে ভারতের বাজি ছিল জিনসন জনসনের উপর। কিন্তু সবাইকে চমকে দেন মনজিত। তাঁর কোচ অমরিশ ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর (জাট রেজিমেন্ট) একজন সুবেদার। ২০১৬ সাল থেকে মনজিতকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছিলেন তিনি। নিজের খরচে দুই বছর ধরে তিনি মনজিৎকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। মনজিতের আত্মবিশ্বাসের সমস্যা ছিল। অমরিশের প্রচেষ্টাতেই তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। তারপরটা ইতিহাস।

মহিন্দর সিং ধিলঁ - তাজিন্দর পাল সিং তুরের কোচ
গেমসে অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা শুরুর দিনই ২3 বছরের তাজিন্দর ২০.৭৫ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জাতীয় রেকর্ড ভেঙ্গে নিজের প্রথম এশিয়ান গেমস সোনা জেতেন। ২০১৩ সাল থেকেই মহিন্দর সিং তাজিন্দরকে কোচিং করান। গত মঙ্গলবারই তাজিন্দারের ক্যানসার আক্রান্ত বাবার দেহাবসান হয়েছে। সেই সময়ও একেবারে অভিভাবকের মতো এমএস ধিলঁ তাঁর ছাত্রকে সামলে রেখেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় সোনা জয়ের পর তাজিন্দর জানিয়েছিলেন, কোচই তাঁকে নিজেকে ছাপিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

সুভাষ সরকার - হেপ্টাথলনিস্ট স্বপ্না বর্মনের কোচ
প্রচন্ড দাঁতের ব্যাথা নিয়েও ভারতকে একাদশতম স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন স্বপ্না বর্মণ। গেমসে একমাত্র তিনিই হেপ্টাথলনে ৬০০০-এর বেশি পয়েন্ট অর্জন করেন। কলকাতা সাইয়ের কোচ সুভাষ সরকার স্বপ্নাকে আবিষ্কার করেছিলেন তাঁর গ্রামের বাড়িতে। একটি অস্থায়ী বাঁশের কাঠামোয় ২১ বছরের স্বপ্না হাইজাম্প অনুশীলন করছিলেন। সুভাষবাবু সেখান থেকে স্বপ্নাকে তুলে এনে প্রথমে জলপাইগুড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে তাঁকে নিয়ে আসেন কলকাতার স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সাই)-র কমপ্লেক্সে। তিনি স্বপ্নাকে হেপ্টাথলন-এর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। দুপায়ে ছয়টি করে আঙুল থাকা নিয়ে স্বপ্নার সমস্যা ছিল। কিন্তু সুভাষবাবুই তাঁকে বোঝান এটা কোনও সমস্যাই নয়।


Click it and Unblock the Notifications



















