
অস্ট্রেলিয়া
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সবমিলিয়ে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন। তবে বল বিতর্কের পর থেকে দলের ফর্ম খুব খারাপ। ২০১৮ সালে দুই সিরিজ মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফল ছিল ৯-১। তারপর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের বিরুদ্ধেও পরাজিত হয়েছে।
বিশ্বকাপের জন্যই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ৫ টি বিশ্বকাপ খেলা ও ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রিকি পন্টিং।
স্টিভ স্মিথ ও ওয়ার্নার বিশ্বকাপে দলে ফিরবেন। তারাই দলের ভাগ্য ফেরাতে পারেন।

আফগানিস্তান
২০১৫ সালেই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল আফগানিস্তান। আর তার পরের ৪ বছরেই নিজেদের ক্রিকেটকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে তারা। এইবারও যোগ্যতা অর্জন পর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপ খেলার টিকিট অর্জন করতে হলেও তারা কী করতে পারে তার প্রমাণ মিলেছিল এশিয়া কাপে। তবে তাদের সাফল্য়ের মূল কারণ তাদের স্পিন আক্রমণ। ইংকেজ পরিবেশ ও পিচে তা কতটা কার্যকর হ.য় সেটাই দেখার।
আফগান স্পিন আক্রমণের মূল ফলা রশিদ খান। একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ই তরুণ লেগ স্পিনারের ঝুলিতেই রয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায় তাঁর উইকেট শিকারের ক্ষমতা।

ইংল্যান্ড
১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে প্রতিবার এই প্রতিযোগিতায় খেলেও এখনও একবারও জিততে পারেনি ক্রিকেটের জন্ম দেওয়া দেশ ইংল্যান্ড। বেশ কয়েকবার ফাইনালে উঠেছে, শেষবার ১৯৯২ সালে। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে গত ৪ বছরে ইংল্যান্ড ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ক্রমতালিকায় ১ নম্বরে উঠে এসেছে। তার উপর দেশের মাটিতে খেলার সুবিধাও পাবে।
দলে আছেন জো রুটের মতো ব্যাটসমন্য়ান। কিন্তু বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন উইকেটরক্ষক ব্য়াটসম্যান জস বাটলার। আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ম্যাচ ঘোরানো পারফরম্য়ান্স আসতে পারে তার তরফ থেকেই।

ওয়েস্টইন্ডিজ
প্রথম দুই বিশ্বকাপ জয়ীদের এই বার যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলে বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হয়েছে। তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম বোঝানোর জন্য এই তথ্যটুকুই যথেষ্ট। গত দুই বারের বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টারফাইনাল পর্ব পার করতে পারনি।
ক্রিস গেইল বিশ্বকাপের পরই অবসর নেবেন। তিনি শেষ বার জ্বলে উঠতে পারেন। তবে এইবার কিন্তু ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের নয়া তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে ২২ বছরের শিমরন হেটমায়ারের। ভারত সফরেই তিনি সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা
বিশ্বকাপের সবচেয়ে হতভাগ্য দল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯২ সালে এক অদ্ভুদ রেইন-রুল-এর শিকার হয়ে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল প্রোটিয়াদের। তারপর থেকে আরও ৩বার সেমিফাইনাল ও ২বার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দল অবশ্য মর্নি মর্কেল ও এবি ডিভিলিয়ার্সের অবসরের পর আগের মতো ধারাবাহিক নেই।
ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকা অনেকটাই নির্ভর করবে ডেভিড মিলার-এর উপর। তবে এই বিশ্বকাপে তাদের হয়ে তারকা হয়ে উঠতে পারেন তরুণ জোরে বোলার লুঙ্গি এনগিদি। হাঁটুর চোট সারিয়ে ফিরে কিন্তু আগের ছন্দে বল করা শুরু করেছেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড
২০১৫ সালেই প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার বাধা টপকাতে পারেনি ম্যাকালামের দল। তার আগে আরও ৬ বার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাঁর জায়গায কেইন উইলিয়ামসন আসার পর, ভারত সিরিজ বাদ দিলে কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বেশ ভাল খেলেছে কিউইরা।
নিউজিল্যান্ড দলে অনেকেই ম্যাচ উইনার হয়ে উঠতে পারেন। অধিনায়ক উইলিয়ামসম, রস টেলর, জোরে বোলার লোকি ফার্গুসন। কিন্তু ভারত সিরিজে ট্রেন্ট বোল্ড যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে বিশ্বকাপে কিউই দলের হয়ে তিনি একাই খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

পাকিস্তান
পাকিস্তান দল নিয়ে কোনও ভবিষ্যৎ-বাণী করা সম্ভব নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই গ্রুপ লিগে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ফাইনালে সেই ভারতীয় দলকেই দারুণভাবে পরাজিত করেছিল। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে পাক দলে কিন্তু তরুণ প্রতিভার অভাব নেই।
তরুণ পাক ব্যাটসম্যান বাবর আজমের তুলনা করা হয় বিরাট কোহলির সঙ্গে। ইতিমধ্যেই তিনি ৮টি শতরান করে ফেলেছেন। গড়-ও ৫১-এর উপরে। তিনিই পাক দলকে বিশ্বকাপে টানতে পারেন।

বাংলাদেশ
ছোট দলের তকমা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে কোয়ার্টারফাইনালে পৌঁছেছিল তারা। ইংল্যান্ডের মাঠে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। ২০১৮ সালে ওডিআই-তে জযের নিরিখে তারা ছিল ইংল্যান্ড ও ভারতের পরেই।
নিদের প্রথম বিশ্বকাপে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন বাঁ-হাতি জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। ২০১৮ সালে আইসিসির সেরা ওডিআই দলে থাকা বোলারটি কিন্তু ইংরেজ পরিবেশে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশ তাঁকে আইপিএল না খেলতে দিয়ে তাজা রাখছে।

ভারত
বিরাট কোহলির নেতৃত্বে গত প্রায় দুই বছর ধরে ভারত বিশ্বের প্রায় সর্বত্র, সব দলের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সফরেও দারুণ ফল করেছে টিম ইন্ডিয়া। ঘরের দল ইংল্যান্ডের পাশাপাশি মেমন ইন ব্লুজ-কেই এইবারের বিশ্বকাপ জেতার প্রধান জাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ভারতের পক্ষে খেলা ঘোরানোর লোক অনেক। ব্য়াটিং-এ একটি নাম বাছতে গেলে বিরাট কোহলি ছাড়া কারোর কথা বলার উপায় নেই। তবে এই বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিতে পারেন চায়নাম্যান কুলদীপ। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, বিদেশী পরিবেশেও সমান বিষাক্ত তাঁর স্পিন।

শ্রীলঙ্কা
গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হেরে ছিটকে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। তারপর থেকে ক্রমশ পড়েছে তাদের ক্রিকেট। এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও হেরেছে। ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা এই বিশ্বকাপে অন্তত বড় দল হিসেবে গন্য হবে না।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও এই বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার প্রধান শক্তি ৩৫ বছরের জোরে বোলার লাসিথ মালিঙ্গা।


Click it and Unblock the Notifications



















