
৩-০-র ক্লিন সুইপ। রাঁচি টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এক ইনিংস ও ২০২ রানের জয় পেল ভারত। মাত্র চার দিনেই (চতুর্থ দিনে মাত্র ১২ বল) শেষ হয় খেলা। ফলো-অনে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৩ রানে অল আউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জয় হাসিল করে ইতিহাস রচনা করল টিম ইন্ডিয়া।
১৩২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমবার সকালে ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্যে নামে। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র দুই উইকেট। তৃতীয় দিনে ভারতীয় পেসার উমেশ যাদবের বলে মাথায় আঘাত পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার ডিন এলগারের 'কলকাশান সাবস্টিটিউট' হিসেবে ব্যাট করতে নামা থেউনিস ডে ব্রুইন তৃতীয় দিনে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
যদিও চতুর্থ দিনে ব্যক্তিগত স্কোর ও দলের টোটালে কোনও রান যোগ করতে পারেনি ওই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামির ফেলা প্রথম ওভার কোনওমতে ঠেকিয়ে, ডেবিউটেন্ট শাহবাজ নাদিমের বলে উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন থেউনিস ডে ব্রুইন। ইলেভেনথ ম্যান লুঙ্গি এলগিডি নেমেই নাদিমকে বাউন্ডারির বাইরে ফেলার চেষ্টা করেন। মিস হিট হয়ে বল নন স্ট্রাইকিং এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটসম্যান আনরেইচ নর্টজের পেটে লেগে বোলারের হাতে পৌঁছয়। আউট হন লুঙ্গি। আঘাত পান নর্টজে। যদিও ম্যাচ ওখানেই শেষ হয়।
তার আগে ভারতীয় পেসার মহম্মদ শামির ৩ ও উমেশ যাদবের ২ উইকেটে রাঁচি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার। দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেট নেন শাহবাজ নাদিম। একটি করে উইকেট নেন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন।
রাঁচি টেস্টের প্রথম ইনিংসে যথাক্রমে ৩ ও ২ উইকেট নেন উমেশ যাদব ও মদম্মদ শামি। পাল্লা দিয়ে ম্যাচে জ্যোতি ছড়ান টিম ইন্ডিয়ার স্পিনাররাও। ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসেও ২ উইকেট নেন বাঁ-হাতি নাদিম। ২ উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের পাহাড়-প্রমাণ ৪৯৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৬২ রানে অল আউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৩৫ রানে পিছিয়ে থাকা প্রোটিয়া শিবিরকে দ্বিতীয় ইনিংসে ফলো-অন করতে পাঠায় টিম ইন্ডিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসেও ভরাডুবি আটকাতে পারেননি ফাফ ডু প্লেসিসরা।
ঝাড়খণ্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়ালের (১০) উইকেট দ্রুত হারায়
টিম ইন্ডিয়া। ফার্স্ট ডাউন চেতেশ্বর পূজারা (০) ও বিরাট কোহলিও (১২) ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। এরপর দলের দ্বিতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার সঙ্গে ভারতের ইনিংস সামলান অজিঙ্ক রাহানে। ম্যাচে ধীরে ধীরে ভারতকে চালকের আসনে বসান দুই মুম্বইকর। চতু্র্থ উইকেটে দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে ২৬৭ রানের পার্টনারশিপ হয়। ১৯২ বলে ১১৫ রান করে আউট হন রাহানে। ২৫৫ বলে ২১২ রান করেন রোহিত।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট করতে নামা ভারতের অল রাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ও উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার মধ্যে ৪৭ রানের পার্টনারশিপ হয়। ২৪ রান করে আউট হন ঋদ্ধি। ৫১ করেন জাদেজা। শেষের দিকে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের স্কোর পাঁচশোর কাছে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন উমেশ যাদব (৩১)। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ উইকেট নেন ম্যাচে অভিষেক হওয়া বাঁ-হাতি স্পিনার জর্জ লিন্ডে। ৩ উইকেট নেন কাগিসো রাবাডা। ম্য়াচ সেরার পুরস্কার পান ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা।