একদিন পুলিশে চাকরি চাইতে তাঁকে কথা শুনতে হয়েছিল। বলে দেওয়া হয়েছিল তিনি হরভজন সিং নন। এবার সেই পুলিশই মুখ্যমন্ত্রীর কথায় চাকরি দিল পাঞ্জাব তনয়া হরমনপ্রীত কউরকে।
মহিলা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হরমনপ্রীতের বিধ্বংসী পারফরমেন্সের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং টুইট করে তাঁকে ডিএসপি পদে চাকরি-র প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ইচ্ছাই এবার বাস্তবায়িত হল। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন হরমনপ্রীত কউর। সেখানেই পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি সুরেশ অরোরাকে নির্দেশ দেন হরমনপ্রীতকে ডেপুটি সুপারিনটেনডন্ট পদে নিয়োগ করার সমস্ত ব্যবস্থা নিতে। আসলে পাঞ্জাবের এই ক্রিকেটারকে আর রেলওয়ের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নন অমরিন্দর সিং।
Presented @ImHarmanpreet kaur with a cheque of Rs 5 Lac. I'm sure her talent would inspire lakhs of young girls. Proud of her achievement! pic.twitter.com/zFVpQfiAFg
— Capt.Amarinder Singh (@capt_amarinder) August 2, 2017
হরমনপ্রীতকেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তিনি রেলওয়েজর বন্ড থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেন।শুধু এটুকুই নয় হরমনপ্রীতকে পাঁচ লক্ষ টাকাও দিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। অমরিন্দর সিং জানিয়েছেন পাঞ্জাবের এই কন্যা বিশ্বমঞ্চে পাঞ্জাবকে গর্বিত করেছেন।
সময়টা ২০১০। জাতীয় দলের শিকে ছিঁড়েছিল হরমনপ্রীত কউরের জন্য। কিন্তু মহিলা ক্রিকেট খেলে তো আর পরিবার চালানো যায়না, তাই পাঞ্জাব তনয়া বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করেছিলেন। বাদ যায়নি পাঞ্জাব পুলিশও। হরমনের কোচ জানিয়েছিলেন সেই দুঃসময়ের লড়াইয়ের কথা। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছিলেন, কউর কি হরভজন সিংহ, যে তাঁকে ডিএসপি-র পদে কাজ দিতে হবে! তিনি ইন্সপেক্টরের পদ পাওয়ারও যোগ্য নন। মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য কোনও চাকরির ব্যবস্থা নেই পঞ্জাব পুলিশে। কিন্তু ২০১৭ -য় দাঁড়িয়ে ছবিটা আজ বদলে গেছে।
সেমিফাইনালে ১১৫ বলে ১৭১ রান করেন হরমনপ্রীত কউর। ফাইনালেও তিনি লড়াকু ৫১ রান করেন। এরপরই পাঞ্জাব তনয়ার জন্য চাকরির প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। একসময়ে ২০১৩ সালে হরমনপ্রীতের হয়ে ব্যাট ধরেন বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর। হরমনপ্রীতকে চাকরি দেওয়ার জন্য সে বছর তৎকালীন রেলমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন সচিন। অবশেষে সচিনের সুপারিশেরই সে বছর ওয়ের্স্টান রেলে চাকরি পান হরমনপ্রীত।