ইংরাজিতে প্রবাদ আছে বেটার লেট দ্যান নেভার। অর্থাৎ কোনও কিছু না হওয়ার থেকে দেরি হওয়া ভাল। ভারতীয় ক্রিকেটের মহিলা দলের পারফরমেন্স যেভাবে লোকজনের দৃষ্টিভঙ্গী বদলে দিচ্ছে তাতে এই প্রবাদটাই সবচেয়ে আগে মনে আসছে।
সময়টা ২০১০। জাতীয় দলের শিকে ছিঁড়েছিল হরমনপ্রীত কউরের জন্য। কিন্তু মহিলা ক্রিকেট খেলে তো আর পরিবার চালানো যায়না, তাই পাঞ্জাব তনয়া বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করেছিলেন। বাদ যায়নি পাঞ্জাব পুলিশও। হরমনের কোচ জানিয়েছিলেন সেই দুঃসময়ের লড়াইয়ের কথা। পুলিশের এক আধিকারিক বলেছিলেন, কউর কি হরভজন সিংহ, যে তাঁকে ডিএসপি-র পদে কাজ দিতে হবে! তিনি ইন্সপেক্টরের পদ পাওয়ারও যোগ্য নন। মহিলা ক্রিকেটারদের জন্য কোনও চাকরির ব্যবস্থা নেই পঞ্জাব পুলিশে।
কিন্তু ২০১৭ -য় দাঁড়িয়ে ছবিটা আজ বদলে গেছে। সেই পুলিশে চাকরিতে প্রত্যাখ্যাত হরমনপ্রীতকে ডিএসপি-র পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। এমনকি টুইটেও নিজের প্রস্তাবের কথা জগতকে জানিয়েছেন তিনি।
Proud of @ImHarmanpreet, they gave an excellent fight to England in the World Cup final, would be happy to appoint her DSP if she desires.
— Capt.Amarinder Singh (@capt_amarinder) July 23, 2017
সেমিফাইনালে ১১৫ বলে ১৭১ রান করেন হরমনপ্রীত কউর। তখনই তাঁর জন্য ৫ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। ফাইনালেও তিনি লড়াকু ৫১ রান করেন। এরপরই পাঞ্জাব তনয়ার জন্য চাকরির প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। একসময়ে ২০১৩ সালে হরমনপ্রীতের হয়ে ব্যাট ধরেন বিশ্ব ক্রিকেটের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর। হরমনপ্রীতকে চাকরি দেওয়ার জন্য সে বছর তৎকালীন রেলমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন সচিন। অবশেষে সচিনের সুপারিশেরই সে বছর ওয়ের্স্টান রেলে চাকরি পান হরমনপ্রীত। পাঞ্জাব মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান প্রস্তাবে দারুণ খুশি হরমনপ্রীতের বাবা। হরমন্দর সিং জানিয়েছেন 'পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমাদের মেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে।'