
মহম্মদ কাইফ
১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার ভারতের হয়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন ১৭ বছরের মহম্মদ কাইফ। ভারত সুপার এইট থেকে ছিটকে গেলেও সেই টুর্নামেন্টে মহম্মদ কাইফের ব্যাট থেকে এসেছিল ২৫১ রান।
দুই বছর পর শ্রীলঙ্কায় হওয়া টুর্নামেন্টের তৃতীয় সংস্করণেও ভারতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ১৯ বছরের মহম্মদ কাইফ। অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের নিরিখে তাঁকে সেই দলের অধিনায়ক বাছা হয়েছিল। সেবারই প্রথম অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। এরপর ভারতের সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছিলেন কাইফ। তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা ফিল্ডার বলা হয়।

বীরেন্দ্র শেহওয়াগ
নজফগড়ের নবাব বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলা ভারতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এক বছর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য টিম ইন্ডিয়ার সিনিয়র দলে তিনি সুযোগ পান। ভারতের হয়ে টেস্ট ও ওয়ান ডে-তে সাড়ে সাত হাজারের বেশি রান রয়েছে বীরেন্দ্র শেহওয়াগের।

হরভজন সিং
ভারতের অন্যতম সেরা অফ স্পিনার তথা কিংবদন্তী হরভজন সিং ১৯৯৮ সালে ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেন। ওই টুর্নামেন্টের ছয় ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে জাতীয় নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন ভাজ্জি। দুই মাস পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে ভারতের সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছিলেন টার্বুনেটর। প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক নিয়েছিলেন হরভজন সিং।

যুবরাজ সিং
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বকালের অন্যতম সেরা যুবরাজ সিং, ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় হওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম সদস্য ছিলেন। ওই বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ২০৩ রান করার পাশাপাশি ১২টি উইকেটও নিয়েছিলেন। ভারত ওই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে যুবিকে ওই টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার ঘোষণা করা হয়েছিল। সে বছরই ভারতের সিনিয়র দলে সুযোগ পেয়েছিলেন যুবরাজ। এরপর ২০০৭-র টি-টোয়েন্টি ও ২০১১-র ৫০ ওভারের বিশ্বকাপেও সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছিলেন যুবি।

ইরফান পাঠান
ভারতের ২০০৭-র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক অল-রাউন্ডার ইরফান পাঠান, ২০০২ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০০৩ সালে তিনি ভারতের সিনিয়র ক্রিকেট দলে সুযোগ পান তিনি। ২০১২ সালে তাঁকে শেষবার ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছিল। ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক পার্থিব প্যাটেল সেই বিশ্বকাপে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

শিখর ধাওয়ান
টিম ইন্ডিয়ার বাঁ-হাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ানের উত্থানও অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ থেকেই। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে হওয়া এই টুর্নামেন্টে ভারতের হয়ে খেলেছিলেন গব্বর। ওই বিশ্বকাপে তিনটি শতরান ও একটি অর্ধশতরান সহ ৫০৫ রান করেছিলেন শিখর। এই মুহূর্তে টিম ইন্ডিয়ার অন্যতম সম্পদ ধাওয়ান, ২০১৫-র বিশ্বকাপে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক রান করেন। ২০১৩ ও ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গোল্ডেন ব্যাটও জেতেন দিল্লির এই বাঁ-হাতি।

দীনেশ কার্তিক
ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলা দীনেশ কার্তিক ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেন। তিনি সেই ভারতীয় দলের উইকেটরক্ষক ছিলেন।

রোহিত শর্মা
২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কায় হওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন রোহিত শর্মা। সেই বিশ্বকাপের ফাইনাল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হেরে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সৌজন্যে ভারতের সিনিয়র দলে ডাক পেয়েছিলেন হিটম্যান।

চেতেশ্বর পূজারা
রোহিত শর্মার পাশাপাশি ২০০৬ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন চেতেশ্বর পূজারাও। তিনি ওই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বিরাট কোহলি
২০০৮ সালে মালেশিয়ায় হওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার বর্তমান নেতা বিরাট কোহলি। ব্যাট হাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন ভিকে।

রবীন্দ্র জাদেজা
ভারতীয় ক্রিকেট দলের অল-রাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ২০০৬ ও ২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেন। ২০০৮ সালে টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় দলের হয়ে ১০ উইকেট নেন জাদু।

কেএল রাহুল
এই মুহুর্তে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কেএল রাহুল ২০১০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেন। সেই টুর্নামেন্টে ১৪৩ রান করেছিলেন তিনি।

পৃথ্বী শ ও শুভমান গিল
২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে হওয়া অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই দলের অধিনায়ক পৃথ্বী শ এই মুহুর্তে ভারতীয় ক্রিকেটের উঠতি তারকা। ওই দলেরই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শুভমান গিল সম্প্রতি ভারতের টেস্ট দলে ওপেনার হিসেবে ডাক পেয়েছেন।


Click it and Unblock the Notifications



















