মহম্মদ শামির ৩ ও উমেশ যাদবের ২ উইকেটে রাঁচি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার। ফলো-অনে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলে ধুঁকছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একটি করে উইকেট নেন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ও রবীচন্দ্রন অশ্বিনও।
কোনও অঘটন না ঘটলে চতুর্থ দিনে ভারতের টেস্ট জয় নিশ্চিত। তা হলে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ ফলে টেস্ট সিরিজ হারিয়ে নজির গড়বে টিম ইন্ডিয়া।
রাঁচি টেস্টের প্রথম ইনিংসে যথাক্রমে ৩ ও ২ উইকেট নিলেন উমেশ যাদব ও মদম্মদ শামি। পাল্লা দিয়ে ম্যাচে জ্যোতি ছড়ান টিম ইন্ডিয়ার স্পিনাররাও। ভারতের হয়ে অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই ২ উইকেট নেন বাঁ-হাতি শাহবাজ নাদিম। ২ উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা। ভারতের পাহাড়-প্রমাণ ৪৯৭ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৬২ রানে অল আউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ৩৩৫ রানে পিছিয়ে থাকা প্রোটিয়া শিবিরকে দ্বিতীয় ইনিংসে ফলো-অন করতে পাঠায় টিম ইন্ডিয়া। সেখানেও প্রোটিয়া ব্যাটসম্য়ানের ব্যর্থতা অব্যাহত। দ্বিতীয় ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বাধিক ৩০ রান করে অপরাজিত রয়েছেন ওপেনার ডিন এলগারের কনকাশান পরিবর্ত থেউনিস ডে ব্রুইন।
ঝাড়খণ্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়ালের (১০) উইকেট দ্রুত হারায়
টিম ইন্ডিয়া। ফার্স্ট ডাউন চেতেশ্বর পূজারা (০) ও বিরাট কোহলিও (১২) ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। এরপর দলের দ্বিতীয় ওপেনার রোহিত শর্মার সঙ্গে ভারতের ইনিংস সামলান অজিঙ্ক রাহানে। ম্যাচে ধীরে ধীরে ভারতকে চালকের আসনে বসান দুই মুম্বইকর। চতু্র্থ উইকেটে দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে ২৬৭ রানের পার্টনারশিপ হয়। ১৯২ বলে ১১৫ রান করে আউট হন রাহানে। ২৫৫ বলে ২১২ রান করেন রোহিত।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাট করতে নামা ভারতের অল রাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ও উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহার মধ্যে ৪৭ রানের পার্টনারশিপ হয়। ২৪ রান করে আউট হন ঋদ্ধি। ৫১ করেন জাদেজা। শেষের দিকে পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভারতের স্কোর পাঁচশোর কাছে নিয়ে যেতে সহায়তা করেন উমেশ যাদব (৩১)। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ উইকেট নেন ম্যাচে অভিষেক হওয়া বাঁ-হাতি স্পিনার জর্জ লিন্ডে। ৩ উইকেট নেন কাগিসো রাবাডা।