পারথ, ৬ মার্চ : বল হাতে প্রতিরোধ কাজে এল না। অভিজ্ঞতা কী জিনিস তা ফের একবার বুঝল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাশাপাশি 'ক্যাপ্টেন কুল' মহেন্দ্র সিং ধোনি ফের একবার বোঝালেন কেন রান তাড়া করে ম্যাচ জেতানোয় সারা বিশ্বে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।
চাপে পড়েও আজ তাই শেষ হাসি হাসলেন সেই 'স্পেশালিস্ট ফিনিশার' মহেন্দ্র সিং ধোনিই। আর জেসন হোল্ডাররা বুঝলেন বিশ্বের সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলতে গেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলকে আরও প্রস্তুতি নিতে হবে।
এদিন ধোনি যখল নামলেন তখন যথেষ্ট চাপে টিম ইন্ডিয়া। জেতার জন্য তখনও অর্ধেক রাস্তা পৌঁছনো বাকি। অন্যদিকে একে একে রায়না, জাডেজারা আউট হলেও ম্যাচের রাশ আলগা হতে দেননি 'ক্যাপ্টেন কুল'। ধীরে ধীরে জয়ের সরণিতে দলকে পৌঁছে ৫৬ বলে অপরাজিত ৪৫ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। ১০.৫ ওভার বাকি থাকতেই ভারত জিতল ৪ উইকেটে। ধোনিকে শেষদিকে যোগ্য সঙ্গ দেন অশ্বিন। ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এদিন বিশ্বকাপের ২৮ তম ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু প্রথম বল থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন শামি, উমেশ যাদবরা। সিমিং উইকেটে একেরপর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। বড় রান করতে ব্যর্থ হন গেইলও। আশা জাগিয়েও শেষপর্যন্ত সামির বলেই মাত্র ২১ রানে গেইল ক্যাচ আউট হওয়ার পর সারি দিয়ে মাঠে এসেছেন আর গিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা।
ব্যতিক্রম শুধু অধিনায়ক জেসন হোল্ডার। ৫৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। তা সত্ত্বেও দুরন্ত ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৮২ রানেই অল আউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ৷
এদিন ভারতের পেস বোলিং অসাধারণ খেলেছে। ৩টি উইকেট পেয়েছেন সামি৷ ২টি উইকেট জাডেজা ও উমেশ যাদবের। অন্যদিকে পেস অ্যাটাক দিয়ে ভারতকেও যথেষ্ট চাপে ফেলে দিয়েছিলেন জেরম টেলর, আন্দ্রে রাসেলরা। তবে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন সেই ধোনি। একা কুম্ভ হয়ে রক্ষা করলেন টিম ইন্ডিয়ার পতন। ফলে গ্রুপ শীর্ষে থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের পথে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে গেল ভারত।
এদিন অনবদ্য বোলিং পারফরমেন্সের জন্য 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ' হয়েছেন মহম্মদ শামি।