২০১৭ বিদায়ের পথে, দরজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি নতুন বছর, ২০১৮। এই গোটা বছরে পাওয়া না পাওয়া অনেক কিছুই আছে। তবে প্রাপ্তির ঝুলি ভরে উপচে গেছে অনেকক্ষেত্রে। এখন বছর শেষের পথে এসে ফিরে দেখা সেই অধ্যায়ের কয়েকটি পাতা।
এবছর ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত অনেক সাফল্যের পালক মুকুটে লাগিয়েছে। বিশেষত ভারতীয় ক্রিকেট দল একের পরএক সাফল্যের মাইলস্টোন পেরিয়েছে। সাফল্যের অনেক নজির তৈরি করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। সকলেই ধন্য ধন্য করছে গোটা ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সকে।
তবে এই বছর ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিতর্কের মূলেও বিরাট কোহলি। এ বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত অনিল কুম্বলের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভারতীয় বোর্ডের। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিন তেন্ডুলকর, ভিভিএস লক্ষ্মণের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি চেয়েছিল ২০১৯ অবধি জাম্বোই থাকুন ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে।
তবে কোচের পদে অনিল কুম্বলেকে আদৌ চাইছিলেন না ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কুম্বলের কোচিংয়ের পদ্ধতি তাঁর না পসন্দ ছিল। সে সময় অধিনায়ক কোহলির সুরেই সুর মিলিয়েছিলেন দলের বেশ কিছু সদস্য। তাঁদের পক্ষ জানানো হয়েছিল অনিল কুম্বলে অযথা দলের ক্রিকেটারদের ওপর শিক্ষকসুলভ বিভিন্ন বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেন। আর তাই নিয়েই নাকি দলের মধ্যে গভীর অসন্তোষ। তাঁদের দাবি ছিল তাঁরা সকলে বড় পেশাদার তাঁদের ওপর ম্যাচ বা অনুশীলনের বাইরে কোনও নিয়ম বিধি তাঁরা পছন্দ করছেন না।
প্রাথমিক ভাবে তাই সৌরভ-লক্ষ্মণ-সচিনরা আলাদা করে অনিল কুম্বলের সঙ্গে কথা বলে ফের একবার কোচ পদের জন্য আবেদন করতে বলেন। তিনি আবেদনও করেন। কিন্তু বিরাট নিজের পয়েন্টে অনড় ছিলেন। কোনওভাবেই তিনি কুম্বলকে কোচ হিসেবে চান না সেটা জানিয়ে দেন।
এরপর ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি রবি শাস্ত্রী, বীরেন্দ্র সেওয়াগ সহ সব আবেদনকারীদের ইন্টারভিউ নেন। তবে শেষ অবধি কোচিং জব পকেটে পুড়ে নেন কোহলি-র প্রিয় শাস্ত্রী স্যার। আসলে আগেও রবি শাস্ত্রীর কোচিংয়ে খেলেছিলেন বিরাটরা। সাফল্যও পেয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের স্বাধীনতায় কোনওরকম হস্তক্ষেপ করতে চাননা।
যদিও বাংলার ঋদ্ধিমান সাহা জানিয়েছিলেন জাম্বো এমন কিছু কঠোর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেন বলে তাঁর মনে হয়নি। আসলে সোজা কথায় কুম্বলের কোচিংয়ে নিজের দাদাগিরি দেখাতে পারছিলেন না বিরাট কোহলি। আর তাই তাঁকে আর ফিরতে দেননি বিরাট।
ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বনাম গ্রেগ চ্যাপেল ছিল অধিনায়ক বনাম কোচের লড়াইয়ের নমুনা। কিন্তু ২০১৭ সালে বিরাট বনাম অনিল কুম্বলে ছাপিয়ে গেল সেই লড়াইকেও। এই বির্তকে ক্রিকেট দুনিয়ার একটা বড় অংশ অনিল কুম্বলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তবুও বিরাটকে তাঁর মত থেকে টলানো যায়নি। তবে আর কিছু খুব বেশি বলা যায়নি, কারণ একের পর এক সাফল্যের মাইলস্টোন পেয়ে চলেছেন বিরাট কোহলি।